মনিরুল ইসলাম : ভারতের সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে নতুন এক সংগঠন—‘মাছি জনতা পার্টি’ (এমজেপি)। আরশোলা জনতা পার্টির (সিজেপি) পর এবার ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদের নতুন নাম হয়ে উঠেছে এই সংগঠন। প্রতিষ্ঠার পর মাত্র ৭২ ঘণ্টায় ইনস্টাগ্রামে সংগঠনটির অনুসারীর সংখ্যা ৩ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে দাবি করেছে এমজেপি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘মাছি জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা আরিয়ান নামের এক শিক্ষার্থী। সংগঠনটি বর্তমানে একজন মুখপাত্র খুঁজছে বলেও জানা গেছে।
কী বলেছিলেন প্রধান বিচারপতি?
ঘটনার সূত্রপাত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা আরশোলা জনতা পার্টির (সিজেপি) একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে। ওই কর্মসূচির আগে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে জোরদার করা হয়েছিল নিরাপত্তাব্যবস্থা। বন্ধ রাখা হয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মেট্রো ও রেলস্টেশনও।
দিল্লি পুলিশের নেওয়া কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়। মামলাটির শুনানির সময় ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, ‘একটা মাছি মারতে হাতুড়ি চালাতে হয় না।’
প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যকে ব্যঙ্গ করেই ‘মাছি জনতা পার্টি’র আত্মপ্রকাশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরশোলা জনতা পার্টির পর নতুন এই সংগঠনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে।
নাগরিকের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন
এমজেপি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে প্রশ্ন তুলেছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নাগরিকদের কি একদিন ‘আরশোলা’ এবং পরদিন ‘মাছি’ বলে অভিহিত করা উচিত?
সংগঠনটির বক্তব্য, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা করার উদ্দেশ্যে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছে না। বরং নাগরিকদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষাই তাদের লক্ষ্য।
এমজেপির স্লোগান—‘তরুণদের দ্বারা, তরুণদের জন্য এবং তরুণদের।’
বড় আন্দোলনের পরিকল্পনা আছে কি?
প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে বিপুলসংখ্যক অনুসারী পাওয়ার দাবি করেছে মাছি জনতা পার্টি। তবে আরশোলা জনতা পার্টির মতো তারাও বড় কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি বা আন্দোলনে নামবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেয়নি। তথ্য সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন