মনিরুল ইসলাম: স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র সাংবাদিক, কাহিনিকার ও চিত্রনাট্যকার-সংলাপ রচয়িতা মুজতবা সউদকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন তাঁর সহকর্মী, সুহৃদ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
রবিবার বিকেল চারটায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)-এর জহির রায়হান কালার ল্যাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এ স্মরণানুষ্ঠান।
চলচ্চিত্র সাংবাদিক শরীফুল আজমের সভাপতিত্বে এবং সৌমিক হাসান সোহাগের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা। স্মৃতিচারণ করেন মেগাস্টার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, কিংবদন্তি অভিনেতা আলমগীর, বাপ্পারাজ, আমিন খান, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, সিনিয়র সাংবাদিক চিন্ময় মুৎসুদ্দি, চলচ্চিত্র পরিচালক ছটকু আহমেদ, শাহ আলম কিরণ, রায়হান মুজিব, মুশফিকুর রহমান গুলজার, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন, প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল, অভিনেত্রী ফাল্গুনী হামিদ, ম. হামিদসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, মুজতবা সউদ চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পাশাপাশি কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনায় ছিলেন একনিষ্ঠ ও নিবেদিতপ্রাণ। চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক তাঁকে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান এনে দেয়। ব্যক্তি জীবনেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সদালাপী ও সর্বজনসমাদৃত।
স্মরণসভায় বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, তিনি শুধু সাংবাদিক বা চিত্রনাট্যকারই ছিলেন না—চলচ্চিত্রের ইতিহাস, শিল্পী ও কলাকুশলীদের কর্মজীবন নিয়েও নিয়মিত লেখালেখি করেছেন। তাঁর লেখনীতে চলচ্চিত্র অঙ্গনের বহু গুণী মানুষের অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে উঠে এসেছে।
অনুষ্ঠানের শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
উল্লেখ্য, মুজতবা সউদ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস)-এর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি একাধিক চলচ্চিত্রের কাহিনি ও সংলাপ রচনা করেন। ‘চাঁদের মতো বউ’ চলচ্চিত্রের জন্য ২০০৯ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। পরদিন তাঁকে রাজধানীর মিরপুরের কালশী কবরস্থানে দাফন করা হয়।