জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার দুই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ায় ১০৫ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
মামলা দুটির একটি নাদিম হত্যাচেষ্টা মামলা, অপরটি বাবুল মৃধা হত্যা মামলা। আলাদা আলাদাভাবে এসব চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়।
নাদিম হত্যাচেষ্টা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইব্রাহিম খলিল। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ায় এজাহারনামীয় ৬৬ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তিনি। গত ২৭ জুলাই ঢাকার সিএমএম আদালতে এ চার্জশিট জমা দেন তিনি। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর মামলা শুনানির জন্য রয়েছে।
চার্জশিটের অপর গুরুত্বপূর্ণ আসামিরা হলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকার সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।
জুলাই গণঅভুত্থান চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানার রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চলাকালে একটি গুলি নাদিমের বাম হাঁটুতে লাগে। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীর দনিয়া ও লাকি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন বাবুল মৃধা। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৫২ দিন পর ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিএমএইচে মারা যান বাবুল মৃধা। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সীমা বেগম ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন।
এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মাহমুদুল হাসান ইরফান। গত ১৩ আগস্ট তিনি ঢাকার সিএমএম আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ায় এ মামলায় ৩৯ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, যাত্রাবাড়ী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা। অব্যাহতি সুপারিশপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন, ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আতিকুর রহমান, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান, যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অর্থ দাস, রবিন খান ওরফে মেকআপ রবিন, মনির আহমেদ ও লুৎফুর রহমান।