মনিরুল ইসলাম : নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে ঢালিউডে যার আগমন ঘটেছিল একেবারে টকঝাল চমকের মতো, সেই জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভিন পপি এখন অনেকটাই আড়ালে। তবে আলোচনার বাইরে নন তিনি। 'কুলি' সিনেমা দিয়েই তার চলচ্চিত্রে অভিষেক।।নায়ক ছিলেন ওমর সানি। পরিচালক ছিলেন মনতাজুর রহমান আকবর।
দীর্ঘদিন পর ব্যক্তিজীবন, ক্যারিয়ার ও বর্তমান সময় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। স্পষ্ট ভাষায় জানালেন—জীবনের কোনো অধ্যায় নিয়েই তার আফসোস নেই।
পপি বলেন, জীবনে যা কিছু অর্জন করেছেন, তা নিয়েই তিনি সন্তুষ্ট। সিনেমা, অভিনয় ও ব্যক্তিগত জীবনে পাওয়া অভিজ্ঞতা তাকে পরিপূর্ণ করেছে। তার ভাষায়, “আমার কোনো আফসোস নেই। আমি আমার জীবনে অনেক কিছু পেয়েছি—ভালোবাসা, সম্মান, কাজ—সবই।”
ব্যক্তিজীবন নিয়ে খুব বেশি প্রকাশ্যে কথা বলেন না পপি। তবে এবার জানালেন, সংসার, স্বামী-সন্তান নিয়েই এখন তার ব্যস্ত সময় কাটছে। পরিবারের সঙ্গেই নিজের সবচেয়ে বড় শক্তি খুঁজে পান তিনি। জীবনের এই পর্যায়ে এসে শান্ত, স্থিতিশীল জীবনকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এক সময়ের শীর্ষ নায়িকা হলেও ক্যারিয়ারের উত্থান-পতনকে খুব স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন পপি। তিনি বলেন, অভিনয়জীবনে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল, আবার অনেক সফলতাও এসেছে। তবে কোনো কিছু নিয়েই আক্ষেপ নেই। বরং কাজের অভিজ্ঞতা তাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
ক্যারিয়ারের শুরুতে যে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন, সেটিকে তিনি আশীর্বাদ হিসেবে দেখেন। পাশাপাশি সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
পপি স্বীকার করেন, জীবনে কিছু ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তবে সেগুলো নিয়েও তার অনুশোচনা নেই। বরং সেগুলোই তাকে নতুনভাবে ভাবতে ও এগিয়ে যেতে শিখিয়েছে। তিনি মনে করেন, ভুল থেকেই মানুষ সবচেয়ে বেশি শেখে।
বর্তমানে অভিনয়ে নিয়মিত না থাকলেও ভবিষ্যতে ভালো গল্প ও মানসম্মত কাজ পেলে ফেরার ইচ্ছা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পপি। পাশাপাশি পরিবারকে সময় দেওয়াই এখন তার প্রধান অগ্রাধিকার।
সন্তানকে নিয়ে তার স্বপ্নও স্পষ্ট। তিনি চান, সন্তান একজন ভালো মানুষ হিসেবে বড় হয়ে উঠুক। শুধু পেশাগত সাফল্য নয়, মানবিক মূল্যবোধকে বেশি গুরুত্ব দেন তিনি।
সবশেষে পপি বলেন, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখেন। অতীতের অর্জন, বর্তমানের শান্তি আর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা—সব মিলিয়েই তার জীবন পূর্ণ। তাই নির্দ্বিধায় বলতে পারেন, “আমার কোনো আফসোস নেই।”