আরমান হোসেন টুটুল।। চার বছর পর বড় পর্দায় ফিরেই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছেন দক্ষিণ ভারতীয় তারকা যশ। গীতু মোহানদাস পরিচালিত ‘টক্সিক: এ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’ সিনেমাটি মুক্তির প্রথম দিনেই বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৪০ কোটি ৭৫ লাখ রুপি আয় করেছে বলে জানা গেছে।
ভারতে সিনেমাটি প্রথম দিনে ১০১ কোটি ১০ লাখ রুপি নেট এবং ১২০ কোটি ৭৫ লাখ রুপি গ্রস আয় করেছে। ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’-এর চার বছর পর যশের বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তনে এই আয়কে বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
কেভিএন প্রোডাকশনস ও মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনসের প্রযোজনায় নির্মিত ‘টক্সিক’-এ যশের সঙ্গে অভিনয় করেছেন নয়নতারা, কিয়ারা আদভানি, রুক্মিণী বসন্ত, তারা সুতারিয়া, হুমা কুরেশি, সুদেব নায়ার ও অক্ষয় ওবেরয়। কন্নড়, হিন্দি, তেলুগু, তামিল ও মালয়ালম—এই পাঁচ ভাষায় সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে।
প্রথম দিন ভারতে সিনেমাটির ২৪ হাজার ৫৭৯টি শো হয়েছে। যশের পর্দায় ফেরাকে ঘিরে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহেরই প্রতিফলন এই সংখ্যা।
তবে প্রথম দিনের আয়ের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো হিন্দি বাজারের সাফল্য। হিন্দি সংস্করণ থেকে সিনেমাটি আয় করেছে প্রায় ৫৫ কোটি রুপি নেট। বিপরীতে যশের মূল ভাষা কন্নড় সংস্করণ থেকে আয় হয়েছে ২৩ কোটি ৩০ লাখ রুপি। অর্থাৎ কন্নড়ের তুলনায় হিন্দি সংস্করণে দ্বিগুণেরও বেশি আয় করেছে সিনেমাটি।
‘কেজিএফ’ সিরিজের মাধ্যমে যশের জনপ্রিয়তা যে শুধু দক্ষিণ ভারতেই সীমাবদ্ধ নেই, ‘টক্সিক’-এর প্রথম দিনের ব্যবসায় আবারও তার প্রমাণ মিলেছে।
অন্য ভাষার সংস্করণগুলোর মধ্যেও ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। তেলুগু সংস্করণ থেকে এসেছে ১৬ কোটি রুপি নেট, তামিল থেকে ৫ কোটি ৫০ লাখ এবং মালয়ালম সংস্করণ থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ রুপি। বিদেশের বাজার থেকে সিনেমাটির আয় প্রায় ২০ কোটি রুপি গ্রস।
সব মিলিয়ে মুক্তির প্রথম দিনেই বিশ্বব্যাপী ১৪০ কোটি রুপির মাইলফলক পেরিয়েছে ‘টক্সিক’।
যশের প্রশংসা, তবে সিনেমা নিয়ে বিভক্ত দর্শক
বক্স অফিসে দারুণ সূচনা হলেও দর্শকদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য একেবারে একমুখী নয়।
সিনেমাটি দেখার পর অনেকেই যশের অভিনয়, পর্দায় উপস্থিতি, লুক, অ্যাকশন দৃশ্য ও স্টাইলের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে যশের ভক্তদের জন্য সিনেমাটিতে তাদের প্রিয় তারকার উপস্থিতি যথেষ্ট আকর্ষণ তৈরি করেছে।
তবে সিনেমার গল্প ও নির্মাণ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তিন ঘণ্টার বেশি দৈর্ঘ্য অনেক দর্শকের কাছে দীর্ঘ মনে হয়েছে। চিত্রনাট্য ও গল্পের গতি নিয়েও সমালোচনা করেছেন কেউ কেউ। অনেকের মতে, সিনেমাটির ভিজ্যুয়াল জাঁকজমক ও নির্মাণের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এর আবেগঘন দিকের তুলনায় বেশি শক্তিশালী।
চরিত্রগুলোর মধ্যে গল্পের যাতায়াত এবং বিভিন্ন অংশের উপস্থাপন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সম্পাদনার ধরনও কিছু দর্শকের কাছে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এখন নজর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে
‘টক্সিক’ প্রথম দিনের বক্স অফিসে যশের তারকাখ্যাতির শক্তি স্পষ্ট করেছে। তবে বড় বাজেটের কোনো সিনেমার দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য শুধু উদ্বোধনী দিনের আয় দিয়ে বিচার করা যায় না।
অগ্রিম বুকিং ও তারকার জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে বড় ওপেনিং পাওয়া সম্ভব হলেও পরবর্তী দিনগুলোতে দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখাই মূল চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার কারণে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের আয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রথম দিনের ঝড় ইতোমধ্যেই তুলেছে ‘টক্সিক’। এখন দেখার বিষয়, উৎসবের ছুটির সপ্তাহান্তে যশের এই সিনেমা সেই গতি ধরে রাখতে পারে কি না।