শিরোনাম
◈ নেপাল-তিব্বতের বন্যা-ভূমিধসে নিখোঁজ প্রায় দেড় হাজার, কোন দেশের কতজন ◈ সৌদি আরবে ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার শঙ্কা, ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি ◈ ১০ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, ঢাকাসহ দেশে ঝোড়ো হাওয়ার শঙ্কা ◈ আদানি চুক্তি থেকে জুলাই সনদ, সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে আলোচনায় যেসব ইস্যু ◈ সচিবালয়ের ১৯ তলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তিন সাপ, আতঙ্কিত কর্মকর্তারা! (ভিডিও) ◈ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ ◈ একসঙ্গে দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস ◈ মোংলায় বন্দরে এআইয়ে যেভাবে ধরা পড়ে যন্ত্রাংশের নামে আসা খণ্ডিত বিলাসবহুল গাড়ি! ◈ নেপালে আকস্মিক বন্যার কারণ কী? সেখানে এত পর্যটক কেন গিয়েছিলেন? ◈ আমিনবাজারের ময়লা থেকে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে চীন, বস্তিবাসীর আবাসনে ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে সম্মতি

প্রকাশিত : ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৩৩ দুপুর
আপডেট : ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৩৭ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আদানি চুক্তি থেকে জুলাই সনদ, সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে আলোচনায় যেসব ইস্যু

শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন। এই অধিবেশনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট, আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংবিধান সংস্কারের মতো ইস্যুতে সংসদ উত্তপ্ত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

গত ১৫ জুলাই চলতি সংসদের বাজেট অধিবেশন শেষ হয়।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে অধিবেশন বসতে হবে। সে অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ইতোমধ্যে অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, অধিবেশনটি ৫, ৭ বা ১০ দিনের সংক্ষিপ্ত হতে পারে। তবে প্রয়োজন হলে মেয়াদ বাড়ানো হবে।

পাসের অপেক্ষায় যেসব বিল
অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হলেও অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ আইনের খসড়া বা বিল উত্থাপিত হতে পারে। এর মধ্যে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০২৬’, ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন-২০২৬’ এবং ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন-২০২৬’ রয়েছে।

এ ছাড়া গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত বিল এবং সম্পত্তি হস্তান্তর বিল বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রস্তাবিত সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিষয়ে চিফ হুইপ জানান, বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও তারা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার বজায় রাখবেন। এর মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা রোধ করা সম্ভব হবে।

উত্তাপ ছড়াতে পারে বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও আদানির চুক্তি
সংসদ অধিবেশনে সবচেয়ে বেশি উত্তাপ ছড়াতে পারে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্প-কারখানা থেকে শুরু করে আবাসিক গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এ বিষয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি স্বৈরাচারী সরকারের আমলে আদানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তিকে দেশের জন্য ‘গর্হিত অপরাধ’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, দায়মুক্তির ব্যবস্থা রেখে বিদ্যুৎ খাতে এমন সব চুক্তি করা হয়েছে, যা দেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এই অর্থনৈতিক চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে তিনি সবার ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা কামনা করেন।

অন্যদিকে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সংসদের বিশেষ কমিটির সুপারিশ (তিন মাসের কৌশলগত জ্বালানি মজুদ, পাইপলাইন, ইস্টার্ন রিফাইনারি ইউনিট-২ প্রকল্প) বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। এছাড়া নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকার বিরোধীদের তোপের মুখে পড়তে পারে।

সংবিধান সংস্কারে ১৭ সদস্যের কমিটি ও জুলাই সনদ
এ অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পাবে। বিশেষ করে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চিফ হুইপ জানান, সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে বিএনপি থেকে সাতজন, জামায়াত থেকে পাঁচজন এবং অন্যান্য দল থেকে একজন করে সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিরোধী দল নাম দিলে তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দক্ষিণ প্লাজায় সব দল সম্মিলিতভাবে যে অঙ্গীকার করেছে, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

সংসদীয় কমিটি
অধিবেশন সামনে রেখে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মোট ৫০টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র ১৫টি গঠন করা হয়েছে। এখনো ৩৫টি কমিটি গঠন বাকি। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম পাওয়া মাত্রই কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে।

নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন
গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী হয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অধিবেশনের শুরুতে অভিনন্দন জানানো হতে পারে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এ ধরনের নির্বাচন হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

এ বিষয়ে বিরোধী দলের সংসদীয় দলের মুখপাত্র নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, আগামী অধিবেশনে আমাদের ভূমিকা কী হবে তা দলীয় বৈঠকে নির্ধারিত হবে। তবে আমরা কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চাই। বিদ্যুৎ-জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আমরা কথা বলব এবং বিলের ওপর আলোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় চাইব। উৎস: বাংলানিউজ২৪

 

  • সর্বশেষ