মনিরুল ইসলাম: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে শেষ মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী শামসুল আলম এ সিদ্ধান্তে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে একটি চলচ্চিত্রের মহরত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বলের দায়ের করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ পরদিনই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
শামসুল আলম বলেন, “আমার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সমিতির বর্তমান প্রশাসক নির্বাচনের উদ্যোগ নেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থও ব্যয় হয়েছে। শেষ মুহূর্তে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় আমরা হতাশ।”
তিনি দাবি করেন, নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী ও সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এ সময় ‘ফ্যাসিস্ট’ তকমা দেওয়ার প্রবণতারও সমালোচনা করেন শামসুল আলম। তিনি বলেন, “অযথা কাউকে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দেওয়া ঠিক নয়। এতে শিল্পীদের সম্মানহানি হয় এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিভাজন সৃষ্টি হয়।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, চলচ্চিত্র অঙ্গনের কয়েকজন ব্যক্তিকে একপক্ষ ‘ফ্যাসিস্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও অন্যদের ক্ষেত্রে একই ধরনের আলোচনা হয় না। তার ভাষ্য, যাদের বিরুদ্ধে আইনগত অভিযোগ বা মামলা রয়েছে, তাদের বিচার আইন অনুযায়ী হওয়া উচিত। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিভাজন সৃষ্টি করা সমাধান নয়।
শামসুল আলম আরও বলেন, “চলচ্চিত্র শিল্প সবার। এখানে রাজনৈতিক বিভাজনের কোনো জায়গা থাকা উচিত নয়। যে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ চলচ্চিত্র নির্মাণে অংশ নিতে পারেন। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া এবং প্রযোজক-পরিবেশক সমিতিকে শক্তিশালী করা।”
তিনি দ্রুত আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান।
চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে রয়েছে। সর্বশেষ হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে সমিতির নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তাদের মতে, দ্রুত আইনি জটিলতা নিরসন করে নির্বাচন সম্পন্ন করা গেলে সমিতির স্বাভাবিক কার্যক্রমও গতিশীল হবে।