মনিরুল ইসলাম: বর্ষার আবহে বিপ্লবী চেতনা আর সুরের মূর্ছনায় মুখর হয়ে উঠল রাজধানী ঢাকা। ‘জুলাই কনসার্ট’ শিরোনামে আয়োজিত বৃহৎ এই সাংস্কৃতিক আয়োজনে একযোগে জমে ওঠে মানিকমিয়া এভিনিউ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত এ কনসার্টে দেশের খ্যাতনামা কণ্ঠশিল্পী ও জনপ্রিয় ব্যান্ড দলগুলো পরিবেশন করে দেশাত্মবোধক, প্রতিবাদী এবং সময়ের কথা বলা গান।
আয়োজক সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এই কনসার্টের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে দুই ভেন্যুতেই জড়ো হতে থাকে হাজারো দর্শক-শ্রোতা। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সী মানুষ সঙ্গীতের এই আয়োজনে অংশ নেন।
কনসার্টের শুরুতে ছিল দেশপ্রেমের গান, যেখানে উঠে আসে দেশের ইতিহাস, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের গল্প। এরপর একে একে মঞ্চে ওঠেন জনপ্রিয় ব্যান্ড ও একক শিল্পীরা। তারা পরিবেশন করেন সমকালীন বাস্তবতা, সামাজিক বৈষম্য, ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রচিত গান। দর্শকরাও শিল্পীদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে গেয়ে ওঠেন, তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।
বিশেষ করে ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ অংশটি ছিল কনসার্টের মূল আকর্ষণ। এখানে পরিবেশিত গানগুলোতে উঠে আসে জুলাইয়ের আন্দোলনের প্রতীকী চিত্র, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশা। আলোকসজ্জা, সাউন্ড সিস্টেম এবং মঞ্চ নির্মাণ ছিল আন্তর্জাতিক মানের, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল জোরদার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করেন, যাতে দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সব শিল্পী একসঙ্গে মঞ্চে উঠে সম্মিলিতভাবে পরিবেশন করেন একটি বিশেষ গান, যা পুরো কনসার্টের বার্তাকে একত্রে তুলে ধরে। আতশবাজি ও আলোর ঝলকানিতে শেষ হয় এ আয়োজন।
সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, বরং একটি সামাজিক বার্তা বহন করে। ‘জুলাই কনসার্ট’ তারই একটি উদাহরণ, যেখানে সঙ্গীত হয়ে উঠেছে প্রতিবাদ, ঐক্য ও পরিবর্তনের ভাষা।
চাইলে আমি এতে
এদিকে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ' কনসার্ট ফর ডেমোক্রেসি' আর জাতীয় সংসদ ভাবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউতে ' বর্ষা বিপ্লবের গান' দুই নামে কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। এতে গান পরিবেশন করেন ব্যান্ড কুঁড়েঘর, মাইলস, পারশা, নাহিদ এন্ড ম্যাজিশিয়ানস, আসিফ আকবর, এভয়েড রাফা,হাসান,লালন ব্যান্ড,সেজান।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাতিয়েছেন মাইলস,ওয়ারফেজ,ডিফরেন্ট টাচ,লালন ব্যান্ডের শিল্পীরা। মানিকমিয়া এভিনিউর কনসার্টে প্রধান অতিথি হয়ে আসেন জাতীয়,সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পীকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
অন্যদিকে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কনসার্টে প্রধান অতিথি ছিলেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।