মনিরুল ইসলাম: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে মডেল ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর জেবা টাকিয়া এর একটি মন্তব্য।
সম্প্রতি তিনি বলেন, “মেয়েরা টাকাকে ভালোবাসে, টাক মাথা নয়।” তার এই বক্তব্য ঘিরে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এরই প্রেক্ষিতে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আরেক আলোচিত - সমালোচিত মডেল , যা বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
জেবা তার বক্তব্যে মূলত বর্তমান সমাজে সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, যা অনেক সময় মানুষের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। তবে তার মন্তব্যের ভাষা ও উপস্থাপন ভঙ্গি অনেকের কাছে আপত্তিকর ও সাধারণীকরণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
এদিকে, জেবার মন্তব্যের জবাবে স্নিগ্ধা চৌধুরী বলেন, নারীদের এভাবে এককভাবে বিচার করা ঠিক নয়। তিনি উল্লেখ করেন, “সব মেয়েকে একইভাবে দেখা বা অর্থলোভী হিসেবে উপস্থাপন করা ভুল। সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মান, ভালোবাসা ও পারস্পরিক বোঝাপড়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
তার এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমর্থন পায়, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ তার অবস্থানকে যৌক্তিক বলে মনে করছে।
ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিষয়টি নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক। এক পক্ষ জেবার বক্তব্যকে ‘বাস্তবতার প্রতিফলন’ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে আরেক পক্ষ এটিকে নারীদের প্রতি অবমাননাকর ও স্টেরিওটাইপ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের মন্তব্য সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে সাধারণ সত্য হিসেবে তুলে ধরা ঠিক নয়। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, আধুনিক সমাজে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও সেটিকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখানো বিভ্রান্তিকর। সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানসিক সংযোগ, মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য অনেক সময় বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়া হয়, যা দ্রুত ভাইরাল হলেও দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জেবা ও স্নিগ্ধা চৌধুরীর এই বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য মূলত একটি বড় সামাজিক বাস্তবতা ও মানসিকতার প্রতিফলন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহার এবং সাধারণীকরণ এড়িয়ে চলাই উচিত।