সীমান্তের বিভেদ ভুলে এক বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় নারী ব্লগার রুবিনা মারুফ। এই সুন্দর পরিণয়ের নেপথ্যে লুকিয়ে আছে এক ঐতিহাসিক ও পারিবারিক টান। রুবিনা মারুফ পাকিস্তানি ব্লগার হিসেবে পরিচিতি পেলেও জন্মসূত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে তার সম্পর্ক বেশ গভীর।
১৯৬৮ সালে রুবিনার বাবা যশোর ছেড়ে পাকিস্তানের পাঞ্জাবে পাড়ি জমান। সেখানেই পরে স্থায়ী হয়ে সংসার শুরু করেন। অনেক বছর পর বাবার সেই স্মৃতিবিজড়িত প্রিয় মাতৃভূমির এক যুবকের সঙ্গেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন এ তরুণী ব্লগার।
ভালোবাসা যে ভৌগোলিক সীমানারেখা কিংবা কাঁটাতারের বেড়া মানে না, সেই সত্যকে আবারও মনে করিয়ে দিলেন এ তরুণী। সম্প্রতি জমকালো আয়োজনে তাদের শুভ পরিণয় সম্পন্ন হয়েছে। বিয়ের পর সামাজিক মাধ্যমে বর-কনের একাধিক ছবি পোস্ট করে ভক্ত-অনুরাগীদের সেই আনন্দের খবরটি নিজেই নিশ্চিত করেছেন রুবিনা মারুফ।
সামাজিক মাধ্যমে নিজের জীবনের সবচেয়ে সেরা মুহূর্তের অনুভূতি প্রকাশ করে একটি পোস্ট দিয়েছেন রুবিনা মারুফ। সেই পোস্টে তিনি লিখেছেন— ‘নিকাহর দিনে বাবা-মায়ের মুখে গর্ব ও আনন্দের হাসি দেখতে পাওয়াটাই আমার জন্য সব থেকে বড় আশ্বাস ছিল।’
রুবিনা মারুফ বলেন, ‘সীমান্তের গণ্ডি পেরিয়ে যাওয়া এ ভালোবাসা, নতুন সূচনা এবং একজন বাংলাদেশি জীবনসঙ্গী পাওয়ার জন্য আলহামদুলিল্লাহ। আমার হৃদয় আজ পরিপূর্ণ, আমার বাবা-মা অত্যন্ত আনন্দিত এবং জীবনের বাকি দিনগুলোর জন্য আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত।’
এক আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করে এ ব্লগার আরও বলেন, ‘একজন বাংলাদেশিকে বিয়ে করলাম। পুরো প্রক্রিয়াটির ওপর ভরসা রাখা সবসময় সহজ ছিল না। তবে আমার জীবনের পথ যেদিকে যাওয়ার কথা ছিল, তা মেনে নেওয়া আমাকে এমন এক আনন্দ দিয়েছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’