মনিরুল ইসলাম: নিজের ওপর ঘটে যাওয়া কথিত নির্যাতনের সঠিক বিচার না হলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। রাজধানীর বনানীতে আজ সোমবার বিকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন, যা ইতোমধ্যেই শোবিজ অঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি স্নিগ্ধা চৌধুরী অভিযোগ করেন, একটি বিজ্ঞাপনী চুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর তিনি প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে দ্বিধায় ছিলেন। ব্যক্তিগত ও পেশাগত ক্ষতির আশঙ্কায় নীরব থাকলেও পরবর্তীতে ন্যায়বিচারের আশায় খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্নিগ্ধা চৌধুরী বলেন, আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূইয়া আমার ওপর যে নির্যাতন করেছে তার বিচার চাই।“ আমি একজন শিল্পী, আমার সম্মানই আমার সবকিছু।এই ঘটনার সঠিক বিচার না হলে আমার বেঁচে থাকার কোনো মানে নেই। ন্যায়বিচার না পেলে আমি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হবো।
তার এই বক্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী মহল থেকে তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বিষয়টি ‘চেপে যাওয়ার’ জন্য।
জানা গেছে, খিলক্ষেত থানায় দায়ের করা মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং পুলিশ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
স্নিগ্ধার এমন ঘোষণার পর শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আবার অনেকে তার মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত নির্যাতনের অভিযোগ নয়, বরং শোবিজ জগতে নিরাপত্তা ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একইসঙ্গে একজন শিল্পীর এমন আত্মহত্যার হুমকি পরিস্থিতির গভীরতা ও মানসিক চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্নিগ্ধা চৌধুরীর অভিযোগ, মামলা এবং সর্বশেষ আত্মহত্যার হুমকি—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন একটি স্পর্শকাতর জাতীয় আলোচনায় পরিণত হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি ও আইনি পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই ঘটনার পরবর্তী গতি।