মনিরুল ইসলাম : কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা-এর কণ্ঠে মোহিত হলো রাজধানীর সংগীতপ্রেমীরা। শুত্রুবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই বিশেষ একক সংগীত অনুষ্ঠানটি ছিল মানবিক উদ্যোগের অংশ—দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বানভাসি মানুষের সহায়তায় সংগৃহীত হয়েছে প্রবেশমূল্যের অর্থ।
সন্ধ্যার পর থেকেই শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে ভিড় জমাতে থাকেন দর্শকরা। মঞ্চে ওঠার পর প্রথমেই দর্শকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রুনা লায়লা বলেন, “আজকের এই আয়োজন শুধু সংগীতের জন্য নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।” এরপর একের পর এক জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে পুরো হল মাতিয়ে তোলেন তিনি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কালজয়ী গান থেকে শুরু করে আধুনিক জনপ্রিয় বিভিন্ন ধারার গান পরিবেশন করেন তিনি। উল্লেখযোগ্য গানগুলো হলো,“দমাদম মাস্ত কালান্দার” – শুরুতেই এই উচ্ছ্বাসপূর্ণ গান দিয়ে দর্শকদের উজ্জীবিত করেন।“সাদের লাউ”,“এই রাত তোমার আমার”। “তুমি যে আমার”। “যখন থামবে কোলাহল”। “শিল্পী আমি তোমাদেরই” পরিবেশন করেন রুনা লায়লা।
সংগীত পরিবেশনের আগে "রুনা লায়লা সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা-কে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এমপি, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন স্টালিন। জাসাস এর কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক চিত্র নায়ক হেলাল খান। সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানজুড়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে শিল্পীকে সম্মান জানান। তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি প্রবীণ শ্রোতারাও স্মৃতিময় সময় কাটান এই একক সংগীত অনুষ্ঠান।
এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় দিক ছিল এর উদ্দেশ্য। আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রবেশমূল্যের পুরো অর্থই বানভাসি মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে প্রদান করা হবে বলে আয়োজকরা জানান। এমন উদ্যোগে অংশ নিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন রুনা লায়লা নিজেও। রুনা লায়লার কণ্ঠে শুধু গান নয়, ছিলো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক শক্তিশালী বার্তা।