শিরোনাম
◈ দিল্লি থেকে বেঙ্গালুরু, ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ ◈ বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন গতি, আলোচনায় পরিবহন করিডোর ◈ ছাত্রদের উপর হামলা: মোদিকে জাহেল বললেন অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ (ভিডিও) ◈ ফাঁসির ঝুঁকি জেনেও দেশে ফিরব, আদালতে হাজির হব: কিয়োডো নিউজকে শেখ হাসিনা ◈ দল থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল কি এমপি থাকতে পারবেন, সংবিধান যা বলছে ◈ বিদ্যুৎ বিল আদায় ও সেবার মান বাড়াতে বেসরকারিকরণের পরিকল্পনা সরকারের ◈ বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ, আদালতের দ্বারস্থ ভুক্তভোগী নারী ◈ সৌদির বিরুদ্ধে হুতিদের নৌ অবরোধের নিন্দা জানাল বাংলাদেশ ◈ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ ◈ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় স্বস্তি, সহজ হলো বৈদেশিক আয় দেশে আনার প্রক্রিয়া

প্রকাশিত : ২২ জুলাই, ২০২৬, ০৯:১৫ রাত
আপডেট : ২২ জুলাই, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শুটিংহীন প্রাঙ্গণে নির্বাচনী ব্যস্ততা, বদলে যাচ্ছে ঢাকাই চলচ্চিত্রের মানচিত্র

মনিরুল ইসলাম : এক সময় ঢাকাই চলচ্চিত্রের প্রাণকেন্দ্র ছিল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একাধিক ফ্লোরে একসঙ্গে চলত সিনেমার শুটিং, ব্যস্ত থাকত শিল্পী–কলাকুশলীদের আনাগোনা। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন সেই চিত্র অনেকটাই উল্টো—ফাঁকা পড়ে থাকে শুটিং ফ্লোর, নেই আলো–ক্যামেরার ঝলকানি; বরং সমিতির নির্বাচন ঘিরেই বেশি সরব এফডিসি প্রাঙ্গণ।

শুটিং কমে ‘নির্বাচনী কেন্দ্র’ এফডিসি পরিনত হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে বছরে যে ক’টি সিনেমার শুটিং হয়, তার বড় অংশই হয় এফডিসির বাইরে। ফলে ঐতিহ্যবাহী এই প্রাঙ্গণ এখন অনেকটা ‘ইভেন্ট নির্ভর’ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, প্রযোজক সমিতি কিংবা পরিচালক সমিতির নির্বাচন এলেই জমে ওঠে পরিবেশ—মিছিল, প্রচারণা, ভোটের উত্তাপেই মুখর থাকে এফডিসি।

সম্প্রতি হয়ে গেলো চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। বিজয়ী হয়েছেন সভাপতি পদে শিবা সানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী। 

এই নির্বাচনের রেশ শেষ হতে না হতেই   ৮ আগষ্ট অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নির্বাচন৷ এনিয়ে প্রচারণা চলছে। তবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে চলছে আইনী খেলা। এখেলায় শেষ পরিনতি কি ঘটে তা নিয়ে জল্পনাকল্পনার শেষ নেই। এরই মধ্যে অনুষ্ঠিত হলে চলচ্চিত্র চিত্রগ্রাহক সংস্থার নির্বাচন।

এদিকে, একজন প্রবীণ ক্যামেরাম্যান বলেন,“আগে দিনে ৫–৬টা ইউনিট কাজ করত। এখন মাসে একটা ইউনিটও পাওয়া যায় না। নির্বাচন এলেই শুধু মানুষ দেখা যায়।”

নিকেতন–গুলশানে নতুন শুটিং হাব

চলচ্চিত্র ও নাটকের শুটিং এখন দ্রুত সরে যাচ্ছে রাজধানীর অভিজাত এলাকা নিকেতন ও গুলশান-এ। আধুনিক অ্যাপার্টমেন্ট, সাজানো ইন্টেরিয়র, সহজ লজিস্টিক সুবিধা এবং কম খরচ—সব মিলিয়ে প্রযোজকদের কাছে এগুলো হয়ে উঠেছে প্রথম পছন্দ।

একজন নাট্যনির্মাতা জানান, “এফডিসিতে সেট বানাতে সময় ও খরচ দুটোই বেশি। গুলশান বা নিকেতনে রেডিমেড লোকেশন পাওয়া যায়, তাই সেখানেই কাজ করছি।”
কেন পিছিয়ে পড়ছে এফডিসি?

এফডিসির এই পরিবর্তিত চিত্র ঢাকাই চলচ্চিত্রের বর্তমান সংকটকেই সামনে আনছে। সিনেমা প্রযোজনা কমে যাওয়া, নতুন বিনিয়োগের অভাব এবং দর্শক সংকট—সবকিছু মিলেই কেন্দ্রীয় স্টুডিওর গুরুত্ব কমিয়ে দিয়েছে।

একজন প্রযোজক নাম  না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, এফডিসি শুধু নির্বাচন আর আনুষ্ঠানিকতার জায়গা হয়ে গেলে চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়বে।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ঢাকাই চলচ্চিত্রের জন্ম ও বিকাশের সাক্ষী এফডিসি আজ এক সন্ধিক্ষণে। একদিকে স্মৃতির ভার, অন্যদিকে পরিবর্তিত বাস্তবতা।নিকেতন–গুলশানের ঝলমলে সেটের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা এই প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সময়—নয়তো একদিন এটি শুধু নির্বাচনী ব্যানার আর স্মৃতিচারণের জায়গা হিসেবেই রয়ে যাবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়