মনিরুল ইসলাম: ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন চিত্রনায়িকা রিয়ানা পারভিন পলি। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ আবেগঘন পোস্টে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা, অভিযোগ এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, যা ইতোমধ্যে শিল্পী মহলে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
পলি তার পোস্টে দাবি করেন, তিনি “খুব ভালোবাসা নিয়ে” শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এফডিসিতে প্রকৃত শিল্পীদের যথাযথ সম্মান নেই।
তিনি উল্লেখ করেন, একসময় যেসব তারকা শিল্পীর উপস্থিতিতে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের ঢল নামত—সেসব বড় মাপের শিল্পীদের এখন আর এফডিসিতে দেখা যায় না।
নিজের পোস্টে তিনি অতীতের সহকর্মী হিসেবে বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পীর নামও উল্লেখ করেন।
নায়ক মান্না, রুবেল, আমিন খান, অমিত হাসান, শাকিব খান, আলেকজান্ডার বো, মেহেদী, ওয়াসিম, হুমায়ুন ফরীদি,
এছাড়া আনোয়ারা, অঞ্জনা, সুচরিতা, শাবনূর, পপি, পূর্ণিমা-এর মতো নায়িকাদের সঙ্গে কাজ করার স্মৃতিও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, কম বয়সে ভুলত্রুটি থাকলেও তিনি প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করে নিজের পরিচয় তৈরি করতে পেরেছেন।
পোষ্টে পলির গুরুতর অভিযোগ করে লিখেন, শিল্পী সমিতির ভেতরে “নামধারী সদস্য”দের কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
বারবার বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। আদালতের মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে সদস্যপদ ফিরে পাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এমনকি এফডিসির ভেতরে একজন শিল্পীকে “অপমানজনক উপাধি” দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।
তিনি দাবি করেন, তাকে নিয়েও অন্যায়ভাবে আচরণ করা হয়েছে এবং নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম হয়েছে—যা তিনি প্রকাশ করায় এখন সমালোচনার মুখে পড়ছেন।
পোষ্টে বর্তমান কমিটির সভাপতি শিবাশানু এবং সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী-এর নাম উল্লেখ করে পলি তার বক্তব্য তুলে ধরেন। যদিও তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ তিনি পোস্টে স্পষ্টভাবে আনেননি। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
আজকের পলির এই পোস্টের কারণ শিল্পী অঙ্গনের কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন বলে জানা যাচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, যারা এসব প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তারা সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক একজন নায়িকার ঘনিষ্ঠ বা সমর্থক। এই নায়িকার নাম নিয়ে পলি টাকা ছিটানোর অভিযোগ তুলেন। তবে এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি এখনও “অভিযোগ বনাম পাল্টা অভিযোগ” পর্যায়েই রয়েছে।
এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিনিয়র পুরুষ শিল্পী জানান, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিকে ঘিরে বিরোধ নতুন কিছু নয়। প্রায় প্রতিটি নির্বাচনের পরই ফলাফল, সদস্যপদ, কিংবা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ সামনে আসে। পলির পোস্ট সেই চলমান অস্থিরতারই আরেকটি প্রতিফলন বলে মনে করছেন তিনি।
তার মতে,পুরোনো ও নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে দূরত্ব।নেতৃত্বের প্রতি আস্থার সংকট।ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিং। এসব কারণেই বারবার এমন বিতর্ক তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, চিত্রনায়িকা পলির পোস্ট শিল্পী সমিতির অভ্যন্তরীণ সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে তার অভিযোগগুলো এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রমাণের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি। অন্যদিকে, তাকে ঘিরে যে সমালোচনা বা ক্ষমা চাওয়ার দাবি উঠেছে—সেটিও স্পষ্টভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে পুরো বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও তথ্য ও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।