জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম নাটক, সিনেমা কিংবা ওটিটি সিরিজ— সব মাধ্যমেই তার অভিনয়ে অগণিত ভক্ত-অনুরাগী রয়েছেন। ভক্তরা তাকে এক নজর দেখার জন্য পাগল। সুযোগ পেলেই তার সঙ্গে ছবি তোলেন, অটোগ্রাফ নেন এবং কথা বলেন। প্রিয় এ অভিনেতাকে একনজর দেখতে পাওয়া হয়ে ওঠে এক বিশেষ মুহূর্ত বিশেষ স্মৃতি।
সেই মোশাররফ করিম যখন কোনো অভিনেতার ভক্ত হন, তখন তার আচরণটাই বা কেমন হওয়া উচিত? সম্প্রতি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্নের জবাব দেন এ অভিনেতা।
নিজের জীবনের সেই স্মরণীয় অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন অভিনেতা মোশাররফ করিম। সেই অভিজ্ঞতার কেন্দ্রে রয়েছেন ভারতীয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার। অভিনয়জীবনের বহু আগে থেকেই দিলীপ কুমারের অভিনয়ের ভক্ত ছিলেন তিনি। তবে প্রিয় অভিনেতাকে সামনে পেয়েও তার সঙ্গে ছবি তোলা কিংবা পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করেননি মোশাররফ করিম; বরং ইচ্ছা করেই দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন তিনি।
১৯৯৫ সালে তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার। সেই সফর ঘিরে তখন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উন্মাদনা। ‘সুপারস্টার’ হিসেবে পরিচিত এ অভিনেতার ঢাকা সফর ঘিরে মানুষের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। তাকে ঘিরে সেই সময়ের উন্মাদনাও ছিল দেখার মতো।
সফরের একপর্যায়ে তিনি এফডিসি পরিদর্শন করেন। সেদিন এফডিসিতে ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আত্মীয়স্বজন, চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট মানুষ এবং অনেক দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় ভিড় জমে যায়। এমনকি অনেক শিল্পীও তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাননি। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছিল তাকে একনজর দেখার আগ্রহ।
সেই সময় তরুণ মোশাররফ করিম ছিলেন নাট্যকেন্দ্রের সদস্য। থিয়েটারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দিলীপ কুমারের সফরের সময় ওসমানী মিলনায়তনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে নাট্যকেন্দ্রের হয়ে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করেন মোশাররফ করিম। ফলে দিলীপ কুমারকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে একবার দিলীপ কুমার এসেছিলেন, কিন্তু আমার কাছে মনে হয় যে আমি আসলে প্রেমের মধ্যে থাকতে চাই। দিলীপ কুমার যে অভিনেতা, তার অভিনয়ের মধ্যে থাকতে চাই। তার যে বাস্তবতা, তার মধ্যে ঢুকে পড়ে আমার ইলিউশনকে নষ্ট করতে চাইনি। মোহকে ভাঙতে চাইনি। তেমনই আমি যদি মোশাররফ করিমের ভক্ত হতাম, তার অভিনয়ের যে মুগ্ধতা, তার মধ্যে থাকতে চাইতাম।
মোশাররফ বলেন, আমি তখন নাট্যকেন্দ্রের সদস্য। তরুণ বয়স। ওই সময়ে ওসমানী মিলনায়তনে আমাদের দায়িত্ব পড়ে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে। হঠাৎ দেখি, স্বপ্নের মানুষ দিলীপ কুমার চোখের সামনে। অনেকে সেদিন কাছে গিয়ে ছবি তুলেছেন। আমি দূর থেকে দেখেছি। ছবি তোলা বা কাছে যাওয়া সম্ভব ছিল। তারপরও দূর থেকে, আবার কাছ থেকেও তাকে দেখছি। একদম সামনে যাইনি, ছবি তুলিনি।