৯৮১ দিনের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফিরেছেন নেইমার। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে নেইমার খেলতে পেরেছেন মিনিট বিশেক। ৭৬ মিনিটে ম্যাথিউস কুনিয়ার বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেইমারকে মাঠে নামান ব্রাজিল কোচ। ম্যাচটি শেষ হতে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি এই সান্তোস তারকা। মাঠেই আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ব্রাজিলের এই তারকা ফরোয়ার্ড। এমনকি ড্রেসিং রুমেও চোখের পানি ফেলেছেন তিনি।
নেইমার জানান, চোট, পুনর্বাসন ও অনিশ্চয়তার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফেরার আবেগ কোনোভাবেই ধরে রাখতে পারেননি এই তারকা ফরোয়ার্ড।
ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে নেইমার বলেন, ‘আজ প্রায় তিন বছর পর আবার ফিরতে (জাতীয় দলের জার্সিতে) পেরেছি। আমি খুবই সুখী, আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। আমি সত্যিই আবেগে ভেসে গিয়েছিলাম।’
জাতীয় দলের জার্সিতে নেইমার সর্বশেষ খেলেছেন ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর। এরপর আর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো হয়নি। বিশ্বকাপ খেলা নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তা। অনেক জল্পনার পর স্কোয়াডে জায়গা পেলেও প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি।
সুদীর্ঘ ৩২ মাস পর মাঠে ফেরার অনুভূতি জানাতে গিয়ে নেইমার বলেন, ‘ড্রেসিংরুমে একা বসে কেঁদেছি। আবার মাঠে ফিরতে পারাটা ছিল একটা বিশাল স্বস্তি। জাতীয় দলের জার্সি পরা, বিশ্বকাপ খেলা, বিশ্বকাপ জেতা-এসবই আমার স্বপ্ন। এই অভিজ্ঞতা অসাধারণ। আমাকে উৎসাহ দেওয়া প্রতিটি সমর্থক এবং বিশেষ করে আমার পরিবারকে ধন্যবাদ জানাই।’
এদিকে মাঠে ফেরার দিনটিকে ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করতে দ্বিধা করেননি নেইমার। তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই আজকের এই দিনটিকে আমার জীবনের সবচেয়ে বিশেষ দিনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করতে পারি। কারণ ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সি পরা প্রতিটি ছেলের স্বপ্ন। আমি দীর্ঘ সময় এই জার্সি পরেছি, এরপর অনেক দিন দূরে ছিলাম। আমি এটাকে ভীষণভাবে মিস করেছি এবং ফিরে আসার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছি।’
এর আগে ম্যাচ শেষ হতেই ক্যামেরা খুঁজে নেয় নেইমারকে। ব্রডকাস্ট ক্যামেরায় নেইমার বলেন, ‘খেলার পর আমি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। তারপর আমি আমার পরিবারের সঙ্গে দেখা করলাম। সবাই কাঁদছিল, লাফালাফি করছিল, হাসছিল। এটা ছিল মিশ্র অনুভূতি।’
ভক্ত-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বললেন, ‘আমি সকল ব্রাজিলিয়ানকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, তাদের ভালোবাসা ও সবসময় সমর্থন দেওয়ার জন্য। এখানে ফিরে আসা সহজ ছিল না। কিন্তু আমরা পেরেছি।’
নেইমার আরও বললেন, ‘আমার লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে খেলা, জাতীয় দলে ফেরা, এই জার্সি পরা। আমি এখানে থাকতে ভালোবাসি, ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সি পরতে ভালোবাসি।’