শিরোনাম
◈ শিল্পায়ন, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার নতুন দিগন্ত ◈ বাংলাদেশ বিশ্বকাপ দেখে না, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে বাঁচে: ফিফার পোস্ট ◈ এক গো‌লেই মেসিকে ছাড়িয়ে রোনালদোর বিশ্ব রেকর্ড ◈ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে যাওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ◈ প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কৃষক কার্ড নেওয়া আলোচিত সেই কৃষক কবির হোসেন মারা গেছেন ◈ বাংলাদেশের বৃহত্তম বন্দরে সৌদি পরিচালিত টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হবে আগামী মাসে ◈ শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে সেবা দিতে আগ্রহী সিঙ্গাপুরের এসএটিএস ◈ কেনো বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে বেড়া দিচ্ছে ◈ ইংল‌্যা‌ন্ডের কাউন্টি‌তে হাসান মাহমুদের অলরাউন্ড নৈপুণ্য, মিডলসেক্সকে হারালো কেন্ট ◈ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হোক: সংসদে এমপি রেহেনা রানু

প্রকাশিত : ২৪ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ রাত
আপডেট : ২৪ জুন, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

৭ বছর পর প্রাণ ফিরছে প্রযোজক-পরিবেশক সমিতিতে, ৮ আগস্ট নির্বাচন

মনিরুল ইসলাম : দীর্ঘ সাত বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে নতুন নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি। বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনকে ঘিরে চলচ্চিত্র অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই নির্বাচন দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৮ আগস্ট রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা প্রণয়ন, সদস্যপদ নবায়নসহ নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় সমিতিতে নেতৃত্ব সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন আইনি জটিলতা ও সাংগঠনিক সমস্যার কারণে গত সাত বছর ধরে নিয়মিত নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়নি।

এবারের নির্বাচনকে শুধুমাত্র নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া নয়, বরং সংগঠনের গণতান্ত্রিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো বহু আলোচিত ‘আম-মোক্তারনামা’ প্রথা বাতিল। আগে একজন প্রযোজক একাধিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করলে একাধিক ভোট প্রয়োগের সুযোগ পেতেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন প্রযোজক কেবল একটি ভোট দিতে পারবেন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সমতাভিত্তিক করবে।

জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে সাধারণ ভোটার রয়েছেন ১৪৭ জন এবং সহযোগী ভোটার ৬০ জন। সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোনো চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে ছাড়পত্র পাওয়ার চার বছর পর একজন প্রযোজক ভোটার হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।

সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন প্রযোজক আরশাদ আদনান। তার নেতৃত্বাধীন প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন শামসুল আলম। এছাড়া সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে প্রার্থী হচ্ছেন সমিতির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু।

অন্যদিকে, বিশিষ্ট প্রযোজক নেতা কামাল কিবরিয়া মো. লিপু -এর নেতৃত্বেও একটি প্যানেল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার সমিতির কার্যালয় থেকে আরশাদ আদনান-খোরশেদ আলম খসরু-শামসুল আলম প্যানেলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্প বর্তমানে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। হলসংকট, চলচ্চিত্র নির্মাণ কমে যাওয়া, বিদেশি কনটেন্টের প্রভাব এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে নতুন নেতৃত্বকে।

চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের মতে, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী কমিটি গঠিত হলে প্রযোজকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের এই নির্বাচন শুধু একটি সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম নয়; বরং দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনের মাধ্যমে আসা নতুন নেতৃত্ব কতটা সফলভাবে শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়