প্রকাশিত : ২৪ জুন, ২০২৬, ০২:০৬ রাত
আপডেট : ২৪ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল
প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক
শুভ জন্মদিন লিওনেল মেসি: রূপকথার জাদুকর যিনি বদলে দিয়েছেন ফুটবলের ভাষা
✖
রোজারিওর ধুলোবালি ওড়া গলিতে এক ছোট্ট ছেলের পায়ে বল যেন আঠার মতো লেগে থাকত। বয়সে ছোট, গড়নে ক্ষীণ—তবু প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের জন্য সে ছিল এক অজানা আতঙ্ক। সেই ছেলেটিই একদিন হয়ে উঠবেন আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় শিল্পী—লিওনেল মেসি।
আজ তাঁর জন্মদিন। ফুটবল বিশ্ব যাকে ভালোবেসে ডাকে “ফুটবল ভিঞ্চি”—কারণ তিনি শুধু গোলই করেননি, ফুটবলকে দিয়েছেন এক নতুন শিল্পভাষা।
ন্যাপকিন পেপার থেকে বার্সেলোনার ইতিহাস
মেসির শৈশবের গল্পটা শুরু হয় সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি তার ফুটবল স্বপ্নকে থামিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। কিন্তু সেই সময় বার্সেলোনার স্কাউটিংয়ে যুক্ত কার্লেস রেক্সাচ এক ন্যাপকিন পেপারে চুক্তির প্রতিশ্রুতি লিখে ইতিহাস বদলে দেন।
২০০০ সালে বার্সেলোনায় যোগ দেন মেসি। এরপর লা মাসিয়া থেকে উঠে এসে তিনি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন ক্লাব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নাম। রোনালদিনহোর সহায়তায় অভিষেক, তারপর একের পর এক ম্যাচে বিস্ময়—গোল, অ্যাসিস্ট, ড্রিবলিংয়ে তৈরি হয় এক নতুন ফুটবল ভাষা।
পেপ গার্দিওলার অধীনে “ফলস নাইন” ভূমিকায় মেসি ফুটবলকে বদলে দেন। ২০০৯ থেকে ২০১২—এই সময়কে অনেকেই বলেন আধুনিক ফুটবলের সোনালী অধ্যায়। এক মৌসুমে ৯১ গোলের বিশ্বরেকর্ড, চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ অসংখ্য শিরোপা, আর ব্যালন ডি’অরের পর ব্যালন ডি’অর—মেসি তখন যেন এক মানবীয় গণিতের বাইরে থাকা ফর্মুলা।
আর্জেন্টিনার যন্ত্রণা ও পুনর্জন্ম
ক্লাব ফুটবলে সফল হলেও জাতীয় দলে দীর্ঘদিন শূন্যতা তাড়িয়ে বেড়িয়েছে মেসিকে। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনাল, ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে এক সময় তিনি অবসরের কথাও ভেবেছিলেন।
কিন্তু ফুটবল ইতিহাসে নায়করা সহজে হার মানেন না।
২০২১ সালে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা জয় ছিল সেই যন্ত্রণার প্রথম মুক্তি। আর ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় অধ্যায়।
কাতার ২০২২: পূর্ণতার গল্প
৩৫ বছর বয়সী মেসির কাঁধে ছিল আর্জেন্টিনার শেষ আশা। প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হার দিয়ে শুরু হলেও এরপর বদলে যায় সবকিছু।
মেক্সিকোর বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোল
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অসাধারণ প্লেমেকিং
ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে দুই গোল ও টাইব্রেকারে নেতৃত্ব
লুসাইল স্টেডিয়ামে ট্রফি হাতে মেসির হাঁটু গেড়ে বসে পড়ার মুহূর্তটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যগুলোর একটি হয়ে আছে।
নতুন অধ্যায়: ইন্টার মায়ামি ও আনন্দের ফুটবল
বর্তমানে ইন্টার মায়ামিতে মেসি খেলছেন চাপমুক্ত এক ফুটবল জীবন। এখন আর প্রমাণ করার কিছু নেই—তবু তিনি প্রতিটি ম্যাচে দেখিয়ে যাচ্ছেন ফুটবল কতটা সুন্দর হতে পারে।
৮টি ব্যালন ডি’অর, শত শত গোল, অসংখ্য রেকর্ড—সবকিছুর চেয়েও বড় সত্য হলো, মেসি ফুটবলকে এক নতুন অনুভূতি দিয়েছেন: নীরব বিস্ময়।
শেষ কথা
লিওনেল মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন—তিনি এক জীবন্ত রূপকথা, যিনি মাঠে নামলেই সময় থমকে যায়।
শুভ জন্মদিন, লিওনেল মেসি। ফুটবলকে এতটা সুন্দর করে তোলার জন্য ধন্যবাদ।