মনিরুল ইসলাম: দেশের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য জাপানি ভাষা শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, সরকারের উদ্যোগে বিনা খরচে ভাষা প্রশিক্ষণ দিয়ে যোগ্য প্রকৌশলীদের জাপানে পাঠানোর কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জাপানের শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে সরকার জাপানের সঙ্গে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং জাপানি ভাষা শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
মাহ্দী আমিন আরও জানান, জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে জাপান থেকে আগত শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, আবাসন ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে সরকার কাজ করছে।
টাউন লাইফ কোম্পানি লিমিটেডের উদ্যোগে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জানানো হয়, স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল ও আর্কিটেকচার বিষয়ে ডিপ্লোমাধারীদের কর্মসংস্থান ভিসার মাধ্যমে জাপানে পাঠানো হবে। নির্বাচিত প্রার্থীদের ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে জাপানে পৌঁছানো পর্যন্ত সকল ব্যয় বহন করবে জাপানের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ল্যাব উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নেও সহায়তা করবে। জাপানে কর্মরত প্রকৌশলীরা মাসিক উচ্চ বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত কাজের ভাতা ও বিভিন্ন বোনাস সুবিধা পাবেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং তাদের চাকরি ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে। তারা আগামী অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে জাপানে যোগদান করবেন। দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে এবং সফলভাবে ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের পর্যায়ক্রমে জাপানে পাঠানো হবে। অবশিষ্টদের ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে জাপানে কর্মস্থলে যোগদানের পরিকল্পনা রয়েছে।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ দাউদ মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় টাউন লাইফ জাপান লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোমিজাওয়া কাজুনোরি, শাখা ব্যবস্থাপক ওকাদা ইয়োহেইসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।