ছোটখাটো বিষয়েও কি সহজেই রেগে যাচ্ছেন? মেজাজ হারানোর এই প্রবণতা ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র—সব জায়গাতেই নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে। পরিস্থিতি তেমন গুরুতর না হলেও রাগের বশে অনেক সময় এমন প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়, যার জন্য পরে অনুশোচনা হতে পারে। তবে কিছু সহজ অভ্যাসের মাধ্যমে রাগের তীব্রতা কমানো এবং প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক থেরাপিস্ট জেফরি মেল্টজার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে রাগ নিয়ন্ত্রণে পাঁচটি কার্যকর কৌশলের কথা জানিয়েছেন।
মুখে পানি ছিটিয়ে দিন
শুনতে অদ্ভুত লাগলেও রেগে গেলে মুখে ঠান্ডা পানি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জেফরি। তার মতে, খুব বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়লে বাথরুমে গিয়ে মুখে ঠান্ডা পানি ছিটিয়ে দেওয়া যেতে পারে। গালে কিছুক্ষণ ঠান্ডা পানির সংস্পর্শও কাজে আসতে পারে।
তার ব্যাখ্যা, মুখ ঠান্ডা করলে শরীরে প্যারাসিমপ্যাথেটিক প্রতিক্রিয়া সক্রিয় হতে পারে। এতে হৃদস্পন্দনের গতি কিছুটা কমতে পারে এবং শরীর শান্ত হওয়ার সুযোগ পায়। ফলে কোনো পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা ভেবে নেওয়ার জন্য সময় পাওয়া যায়।
অন্যের আচরণকে সবসময় নেতিবাচকভাবে দেখবেন না
কেউ আপনার সঙ্গে খারাপ আচরণ করলেই ধরে নেওয়া উচিত নয় যে তিনি ইচ্ছা করেই অসম্মান করেছেন বা ক্ষতি করতে চেয়েছেন। এমন ধারণা রাগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
জেফরির পরামর্শ, কাউকে স্বার্থপর বা খারাপ মনে করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন—তার আচরণের অন্য কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে কি না। হয়তো তিনি আপনাকে দেখতে পাননি, অথবা ভুলবশত এমন কিছু করেছেন।
এর অর্থ অবশ্যই ক্ষতিকর আচরণকে উপেক্ষা করা নয়। বরং যে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা নেই, সেটিকে নিজের ধারণার ভিত্তিতে আরও নেতিবাচক করে না দেখাই গুরুত্বপূর্ণ।
রাগের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখুন
কোনো বিষয় খুব বিরক্ত করলে নিজেকে পাঁচ থেকে ১০ মিনিট সময় দিতে পারেন। এ সময় কী কারণে রাগ হয়েছে, তা নিয়ে ভাবুন বা লিখে রাখুন। এরপর ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য কোনো কাজে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করুন।
জেফরি বলেন, একই ঘটনা বারবার মনে মনে ঘুরিয়ে দেখা বা বিশ্লেষণ করা রাগকে দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে। তাই অনুভূতিকে কিছুটা সময় দেওয়া প্রয়োজন, তবে সারাদিন ধরে একই ঘটনা মনে মনে পুনরাবৃত্তি করা উচিত নয়।
প্রতিক্রিয়ার আগে শরীর শান্ত করুন
রাগের মুহূর্তে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে অন্তত এক মিনিট ধীরে শ্বাস নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই থেরাপিস্ট। প্রায় চার সেকেন্ড ধরে শ্বাস নেওয়া এবং ছয় সেকেন্ড ধরে শ্বাস ছাড়ার চেষ্টা করা যেতে পারে।
তার মতে, রাগের সময় শরীরের উত্তেজনা কমানোর কৌশল অনেক বেশি কার্যকর। তাই প্রথমে শরীরকে শান্ত করতে হবে, এরপর পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত, তা সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ঘুম ও দৈনন্দিন অভ্যাস ঠিক রাখুন
অতিরিক্ত ক্লান্ত থাকলে মানুষের সহ্যক্ষমতা কমে যায়। ফলে সামান্য বিষয়েও বিরক্ত বা রেগে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। জেফরির মতে, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং কিছু সময় সূর্যের আলোতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। শরীর ও মন যত বেশি ক্লান্ত বা অবসন্ন থাকবে, ছোটখাটো বিরক্তিকর পরিস্থিতিও তত বেশি প্রভাব ফেলবে।
তাই রাগ নিয়ন্ত্রণে শুধু রাগের মুহূর্তে নিজেকে সামলানোই যথেষ্ট নয়। পর্যাপ্ত ঘুম, শারীরিক সক্রিয়তা ও নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। এসব অভ্যাস ঠিক রাখতে পারলে দৈনন্দিন ছোটখাটো বিরক্তি আচরণ ও কথাবার্তার ওপর কম প্রভাব ফেলবে।