রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা থাকলে সহিংসতামুক্ত স্থানীয় নির্বাচন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মো. সানাউল্লাহ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সহিংসতামুক্ত হয়েছে। এর মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা।
সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও রাজনৈতিক দলগুলোর সেই সদিচ্ছা কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন একটি অনন্য নির্বাচন হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ভায়োলেন্স চায় না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা বেশি থাকায় এ বিষয়ে কমিশন বিশেষভাবে সতর্ক থাকবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তবে শুধু মনোনয়ন পেলেই কোনো প্রার্থী নির্বাচিত হবেন না। নির্বাচন হবে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য। জনগণের ভোটে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হবেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদেরও নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা থাকবে কমিশনের।
নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর। নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে রাজনীতিবিদদের ভূমিকা রাখতে হবে। নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করলে নিবন্ধন বাতিল হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনার মো. সানাউল্লাহ বলেন, আইন প্রণয়নের এখতিয়ার সংসদের। সংসদ যে আইন করবে, নির্বাচন কমিশন সেটি বাস্তবায়ন করবে। রাজনৈতিক দলগুলো কী নিয়ম মেনে নির্বাচনে অংশ নেবে, তা আইনে আছে। কোনো রাজনৈতিক দল সেই নিয়ম না মানলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বাদ পড়তে পারে।
দি অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি নামের পর্যবেক্ষক সংস্থা আয়োজিত ডায়লগে বিভিন্ন দলের নেতারাও বক্তব্য রাখেন। সংস্থাটি জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে তাদের রিপোর্ট প্রকাশ করে জানায়, জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিলো। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অন্য নির্বাচনের চেয়ে ভালো থাকলেও নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ কম ছিলো।
ডায়লগে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, সামনের নির্বাচনগুলো নির্ভুলভাবে করতে ইসির অ্যাকশন প্ল্যান থাকা জরুরি। নির্বাচনে ফান্ডিং এর ক্ষেত্রে দেশের ভেতর থেকে কীভাবে ফান্ড সংগ্রহ করা যায় তা লক্ষ্য রাখতে হবে।
সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন বলেন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ভালো থাকলেও কোনো কোনো কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার নিরপেক্ষ ছিলো না। ভোট গণনায় অস্বচ্ছতা, অনিরপেক্ষতা ছিলো। ভোট গণনায় অনেক দেরি হয়েছে। এসব কারণে জামায়াত অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসি কিভাবে ভালো করবে সেটি নিয়ে প্রশ্ন আছে।
সংসদ সদস্য শিরিন সুলতানা বলেন, জাতীয় নির্বাচনে দেশের বাইরে পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ ছিলো না।