মনিরুল ইসলাম: শিক্ষক নিয়োগ ও এমপিওভুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘সমৃদ্ধ অর্থনীতির বিনির্মাণে শিক্ষা: দক্ষতা, ভাষাগত সক্ষমতা ও বৈশ্বিক গতিশীলতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এমপিও শিক্ষক ও এনটিআরসিএ-সংক্রান্ত বিষয়টি এখনো প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। “গুপ্তভাবে কেউ কেউ তথ্য বিকৃত করে গণমাধ্যমে প্রকাশ করছে, যা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর,” উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্টদের যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস না করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথমে বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে, এরপর নিয়োগের চূড়ান্ত পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “শিক্ষকরা বেতন-ভাতা নেবেন, কিন্তু শিক্ষার্থীদের ফলাফল শূন্য থাকবে—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত দুই দশকে শিক্ষা খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি; বরং অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা গেছে। শিক্ষক সংকটকে তিনি ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন।
এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জোর করে কি ফল করানো যায়? জোর করে পাস করানো যায় না।” এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়ার কথাও জানান তিনি।
সেমিনারে উপস্থিত বক্তারা শিক্ষা খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রয়োজনীয় নীতি ও সংস্কার নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।