অবশেষে শাহবাগের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের জট খুলছে, প্রায় চূড়ান্ত পরিচালনা পদ্ধতি। হাসপাতালটি চলবে কোম্পানি আইনে। দ্রুতই গঠন করা হবে আলাদা পরিচালনা পর্ষদ। এমনকি শুরু হবে জনবল নিয়োগ। করপোরেট ব্যবস্থায় চলবে এ হাসপাতাল। নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না।
সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালের আদলে তৈরি করা হয় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি। নির্মাণ শেষে বাংলাদেশ সরকারের কাছে এটি হস্তান্তর করে দক্ষিণ কোরিয়া। এর পরই শুরু হয় দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনা। তবে প্রায় চার বছর ধরে অলস পড়ে আছে দেড় হাজার কোটি টাকার হাসপাতালটি।
নতুন সরকার আসার পর নেওয়া হয় উদ্যোগ। সংশোধন করা হয় বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি আইন। এটি এখন পরিচালনা করবে আলাদা বোর্ড অব ডিরেক্টরস, যেখানে থাকবেন হাসপাতাল পরিচালনায় অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা। আগামী সপ্তাহেই হতে পারে বোর্ড গঠন।
হাসপাতালের ১০ শতাংশের মালিকানা সরকারের আর ৯০ শতাংশের মালিক বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ)। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হবেন উপাচার্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালক একজন উপ-উপাচার্য আর প্রধান নির্বাহী নেওয়া হবে বাইরে থেকে, যার করপোরেট হাসপাতাল পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে।
পরিচালনা পর্ষদই গঠন করে দেবে নিয়োগ কমিটি। তাদের অধীনে শুরু হবে নতুন করে জনবল নিয়োগ। করপোরেট হাসপাতালের মতো এটি পরিচালনায় থাকবেন একজন প্রধান নির্বাহী, বেতন কাঠামো হবে আলাদা। প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না কেউ। বেতন ছাড়াও লভ্যাংশ পাবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। সব নিয়োগ হবে চুক্তিভিত্তিক।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এখানে ম্যানেজমেন্টের জন্য লোক নিয়োগ করা হবে। এটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি ইউনিট হিসেবে পরিচালিত হবে। এটি হবে একটি সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। হাসপাতালটি অলাভজনক নাকি লাভজনক হবে, এ বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, তবে এখান থেকে যে লাভ হবে, তা কেউ নিতে পারবেন না; বরং হাসপাতালের উন্নয়নেই তা পুনর্বিনিয়োগ করা হবে। এখানে অত্যন্ত উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে এবং বাংলাদেশের সব মানুষই এই সেবা নিতে পারবেন।
এটি একেবারেই বিশ্বমানের একটি হাসপাতাল হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে, এমনকি দুই মাসের মধ্যেই এটি উদ্বোধন করা হবে। এখানে উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা, দক্ষ চিকিৎসক ও আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ফলে চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকেই আর বিদেশে যেতে হবে না। এর মাধ্যমে বিদেশমুখী চিকিৎসার একটি বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই আমরা।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর হাসপাতালটির উদ্বোধন করা হয়। ৭৫৮ শয্যার এ হাসপাতালে রয়েছে ১০০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট ও ১৪টি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার। বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার জন্য রয়েছে লিভার, কিডনি ও কার্ডিয়াকসহ পাঁচটি বিশেষায়িত সেন্টার। সূত্র: যমুনাটিভি