শিরোনাম
◈ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ ◈ এসএসসি পরীক্ষার বিশেষ ১৪ নির্দেশনা দিল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড ◈ এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর: কর্মপন্থা নির্ধারণে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন ◈ ৪৯ মি‌লিয়‌নে বি‌ক্রি হ‌লো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বল  ◈ মিড-ডে মিলে খাবারের মান নিয়ে কোনো আপস নয়: প্রধানমন্ত্রী ◈ ৮ মাসে ৯৫ কারখানা বন্ধ, কর্মসংস্থান হারিয়েছে ৬২ হাজার: সিপিডি ◈ আরও ৫ মৃত্যু হামের উপসর্গে, প্রাণহানি বেড়ে ৯৩৮ ◈ ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার তারিখ প্রকাশ ◈ ‘একসঙ্গে দিতে পারছি না’, নতুন পে স্কেল নিয়ে যা বললেন অর্থমন্ত্রী ◈ ইমরান খা‌নের যত্ন নিন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে আবার চিঠি গাভাস্কার, কপিল দেব সহ ২১ সা‌বেক অধিনায়কের

প্রকাশিত : ১৪ মে, ২০২৬, ০৯:৩৮ রাত
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সুপারমার্কেটে ভিড় বাড়ছে, বদলে যাচ্ছে মধ্যবিত্তের কেনাকাটার ধারা

দেশের সুপারমার্কেট চেইনগুলোতে গ্রাহক সমাগম এবং স্টোর সম্প্রসারণে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিচ্ছে। ভ্যাট প্রত্যাহার, নাগরিক জীবনযাপনে পরিবর্তন এবং ভোক্তাদের ক্রমবর্ধমান আস্থার ওপর ভর করে— মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটার ধরনে এই আমূল পরিবর্তন আসছে।

ঢাকা এবং দেশের প্রধান শহরগুলোতে এই পরিবর্তনের গতি আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে। স্বাচ্ছন্দ্য, পরিচ্ছন্নতা এবং সুশৃঙ্খল কেনাকাটার অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সুপারমার্কেটগুলো এখন আরও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে আকর্ষণ করছে। সংশ্লিষ্ট শিল্পের অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিরা বলছেন, গত দুই বছরে দেশের সংগঠিত খুচরা বিক্রয় (অর্গানাইজড রিটেইল) খাতে নতুন করে জোয়ার এসেছে, যেখানে স্থানীয় বড় করপোরেট গ্রুপ এবং আন্তর্জাতিক খুচরা বিক্রেতাদের বড় বিনিয়োগ চালিকাশক্তির ভূমিকা রাখছে।

গত তিন বছরের ব্যবধানে এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেডের অধীনে পরিচালিত দেশের বৃহত্তম সুপারমার্কেট চেইন 'স্বপ্ন' তাদের দৈনিক গ্রাহক সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করেছে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, তিন বছর আগে তাদের আউটলেট ছিল ৫০৭টি, যা বর্তমানে প্রায় ১ হাজারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে দৈনিক ক্রেতা সংখ্যা ছিল ৬৫ থেকে ৭০ হাজার, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজারে পৌঁছেছে।

স্বপ্নের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ জানান, ২০২৪ সালের শেষের দিকে সুপারমার্কেটের ওপর থেকে অতিরিক্ত ভ্যাট প্রত্যাহার গ্রাহক বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, "বিগত ১৮ বছর ধরে আমরা গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে কাজ করেছি। মানুষ এখন বুঝতে পেরেছে যে সুপারমার্কেট শুধু উচ্চবিত্তদের জন্য নয়। ভোক্তারা এখন হাইজিন, পণ্যের গুণমান এবং স্বাচ্ছন্দ্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। গত দুই বছরে আমরা ২০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করেছি।"

তিনি আরও যোগ করেন যে, উন্নত কোল্ড-চেইন সুবিধা, খাদ্য নিরাপত্তার মানদণ্ড এবং উন্নত গ্রাহক সেবা বিভিন্ন আয়ের মানুষকে সুপারমার্কেটের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে।

এসিআই-এর চিফ বিজনেস অফিসার কামরুল হাসান বলেন, "মানুষ এখন এমন একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ চায় যেখানে এক ছাদের নিচেই কোনো ঝামেলা ছাড়াই সবকিছু পাওয়া যায়। শহুরে ভোক্তারা এখন খাদ্যের নিরাপত্তা, পণ্যের সঠিকতা এবং সেবার মান নিয়ে অনেক বেশি সচেতন।"

খুচরা বিক্রয় খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনও এই খাতের বিকাশে সহায়ক হচ্ছে। শহুরে পরিবারগুলো এখন ছোট হয়ে আসছে, কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে এবং ভোক্তারা দ্রুত ও পরিচ্ছন্ন কেনাকাটার অভিজ্ঞতা খুঁজছেন। এছাড়া ডিজিটাল পেমেন্ট, লয়্যালটি প্রোগ্রাম এবং প্রমোশনাল অফারগুলো আধুনিক রিটেইল চেইনগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

বাটা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং খুচরা শিল্প বিশ্লেষক ফারিয়া ইয়াসমিন বলেন, "মানুষ এখন আর  কাঁচাবাজারে কিংবা পাড়ার ছোট দোকানে দীর্ঘ সময় নষ্ট করতে চায় না, যেখানে ভিড়ভাট্টা হয় এবং বেঁছে নেওয়ার সুযোগও থাকে সীমিত। ভোক্তারা এখন দক্ষতা, মান, পছন্দের স্বাধীনতা এবং স্বচ্ছতা চায়। সুপারমার্কেটগুলো সেই চাহিদা পূরণ করছে।"

এই পরিবর্তনের দৃশ্য সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয় সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে। মগবাজারের স্বপ্ন মেগামলে দেখা যায়, প্রতিটি আইলে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। সেখানে ট্রলি ভর্তি বাজার নিয়ে কেনাকাটা করছিলেন গৃহিণী নাজমুননাহার। তার ট্রলিতে টাটকা শাকসবজি থেকে শুরু করে মাছ-মাংস এবং দামী কসমেটিকস—সবই ছিল।

নাজমুননাহারের কাছে এই পরিবর্তনের মূল কারণ হলো সময় বাঁচানো। তিনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "কয়েক বছর আগেও মাসের বাজার করতে আমাকে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন মুদি দোকান এবং কাঁচাবাজারে ঘুরতে হতো। এখন আমার প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুই এক জায়গায় পাওয়া যায়।" তিনি আরও যোগ করেন, "কখনও কখনও আমি স্থানীয় দোকানের চেয়েও ভালো ডিসকাউন্ট এখানে পাই।"

শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ভ্যাট প্রত্যাহারের ফলে সুপারমার্কেট এবং প্রথাগত বাজারের মধ্যে পণ্যের দামের ব্যবধান কমে এসেছে। এটি সাধারণ ভোক্তাদের কাছে সুপারমার্কেটকে আরও সহজলভ্য করে তুলেছে। তদুপরি, অনিয়ন্ত্রিত কাঁচাবাজারের তুলনায় সুপারমার্কেটগুলো নির্ধারিত দাম এবং মান নিয়ন্ত্রণের নিশ্চয়তা দেয়। ঢাকার কর্মজীবী শ্রেণির সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে 'সাচ্ছন্দ্যের অর্থনীতি' এখন বিলাসিতার চেয়ে প্রয়োজনেই বেশি পরিণত হচ্ছে।

বাটা বাংলাদেশের এমডি ফারিয়া আরও উল্লেখ করেন যে, এই পরিবর্তন প্রতিষ্ঠিত চেইন এবং নতুন উদ্যোক্তা—উভয় পক্ষের জন্যই সুযোগ তৈরি করছে। স্বপ্নের পাশাপাশি ইউনিমার্ট, আগোরা এবং মীনা বাজারের মতো পুরনো ব্র্যান্ডগুলোও দীর্ঘ কয়েক বছর ধীরগতির পর আবার সম্প্রসারণ শুরু করেছে। একই সাথে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ এবং মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের মতো বড় গ্রুপগুলোও শক্তিশালীভাবে এই বাজারে প্রবেশ করছে। এছাড়া আলফামার্ট এবং মিতসুবিশি কর্পোরেশনের মতো বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোও বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভোক্তা অর্থনীতির ওপর বাজি ধরছে।

খুচরা বাজারে প্রাণ-আরএফএল-এর সম্প্রসারণ

স্থানীয় করপোরেটগুলোর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খুচরা বাজারে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। গ্রুপটি মিঠাই, ডেইলি শপিং, রিগ্যাল এম্পোরিয়াম, ভিশন এম্পোরিয়াম, বেস্ট বাই, ফ্রাই বাকেট, দুরন্ত গ্যালারি এবং টেস্টি ট্রিটের মতো ব্র্যান্ডের মাধ্যমে একটি বিশাল রিটেইল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অধীনে ২,৪৪৪টি আউটলেট রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি গ্রাহক আসেন।

তাদের সুপারমার্কেট চেইন 'ডেইলি শপিং'-এর বর্তমানে ১০৭টি আউটলেট রয়েছে এবং প্রতিদিন ২৩ হাজারেরও বেশি ক্রেতা সেখানে যান। রিগ্যাল এম্পোরিয়াম ২৩০টি আউটলেটের মাধ্যমে দৈনিক ২৫ হাজার গ্রাহককে সেবা দেয় এবং ভিশন এম্পোরিয়ামের ৫০০টি আউটলেটে দৈনিক প্রায় ৩৫ হাজার ক্রেতা আসেন। এমনকি নতুন চালু হওয়া ব্র্যান্ডগুলোও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ২০২০ সালে চালু হওয়া 'ফ্রাই বাকেট'-এর বর্তমানে ২৪টি আউটলেট এবং দৈনিক ৪ হাজার গ্রাহক রয়েছে। ২০২৩ সালে চালু হওয়া 'সারা'স পিজ্জা'র এরই মধ্যে ৬টি আউটলেট হয়ে গেছে।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (মার্কেটিং) কামরুজ্জামান কামাল বলেন, বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল খুচরা বাজারে দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনা দেখছে কোম্পানিটি। তিনি বলেন, "ভোক্তাদের আচরণের দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। মানুষ এখন শুধু পণ্য কিনছে না, তারা স্বাচ্ছন্দ্য, অভিজ্ঞতা এবং আস্থা খুঁজছে। আমাদের লক্ষ্য হলো আধুনিক কেনাকাটার এই সুবিধা বড় শহর ছাড়িয়ে জেলা শহর এবং মফস্বলগুলোতেও পৌঁছে দেওয়া।"

এদিকে জেমকন গ্রুপের মালিকানাধীন সুপারমার্কেট চেইন 'মীনা বাজার' গত এক বছরে ১২-১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের চিফ অপারেটিং অফিসার শামীম আহমেদ জায়গিরদার। তার মতে, অতিরিক্ত ভ্যাট প্রত্যাহারের ফলে এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, বড় ধরণের সম্প্রসারণ ছাড়াই এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা দ্রুত প্রসারের চেয়ে গ্রাহক ধরে রাখা এবং পরিচালনার দক্ষতার ওপর তাদের গুরুত্বারোপের প্রতিফলন।

তিনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "আমাদের মূলমন্ত্র হলো মানসম্মত ব্যবসা, দ্রুত সম্প্রসারণ নয়।" তিনি আরও জানান, গত ছয় মাসে মীনা বাজার ৪টি নতুন আউটলেট খুলেছে এবং সেবার মান ও গ্রাহক আস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। বর্তমানে দেশজুড়ে এই সুপারমার্কেট চেইনের ৩৯টি আউটলেট রয়েছে, যার বেশিরভাগই ঢাকায় অবস্থিত।

আকিজ ও মেঘনার লক্ষ্য 'কনভিনিয়েন্স রিটেইল'

আকিজ গ্রুপও তাদের 'আকিজ ডেইলি' ব্র্যান্ডের মাধ্যমে বড় ধরনের সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে সাশ্রয়ী এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় কেনাকাটাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, ২০২২ সালে খাদ্য, স্ন্যাকস এবং গৃহস্থালি পণ্য নিয়ে ৫টি আউটলেটের মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু হয়েছিল। এখন আকিজের দেশব্যাপী বিপণন ব্যবস্থা এবং ব্র্যান্ড ইমেজ ব্যবহার করে একে একটি বিশাল নেটওয়ার্কে রূপান্তর করার কাজ চলছে।

এই সম্প্রসারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যবিত্ত ভোক্তাদের জন্য পণ্যের সহজলভ্যতা, সাশ্রয়ী মূল্য এবং দ্রুত কেনাকাটার সুবিধাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি খুচরা বিক্রয় বা রিটেইল মডেল গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য। 

সম্প্রতি আকিজ গ্রুপ তাদের ইলেকট্রনিক্স রিটেইল ব্র্যান্ড 'ওরকা' চালু করেছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে অন্তত ২৫টি এবং ২০২৮ সালের মধ্যে দেশব্যাপী ১০০টি শোরুম খোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। যা তাদের সংগঠিত রিটেইল খাত নিয়ে বড় লক্ষ্যকেও তুলে ধরছে। 

অন্যদিকে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই) তুলনামূলক আরো স্বাচ্ছন্দ্য-ভিত্তিক খুচরা বিক্রয় বা রিটেইলে গুরুত্ব দিয়ে কিছুটা ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। গ্রুপটি তাদের 'ফ্রেশ সুপার মার্ট' ব্র্যান্ডের অধীনে ঢাকা মেট্রো রেল স্টেশনগুলোর আশেপাশে ছোট আকারের স্টোর স্থাপনের পরিকল্পনা করছে, যাতে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী এবং ঘনবসতিপূর্ণ শহুরে এলাকার ভোক্তাদের নাগালে থাকা যায়। শুরুতে এমআরটি লাইন-৬-এর মতিঝিল, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মিরপুর-১০ ও ১১, পল্লবী এবং উত্তরাসহ ৯টি স্টেশনে আউটলেট খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে তাদের ৪টি আউটলেট চালু আছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে তা ১২টি স্টোরে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

মেঘনা গ্রুপের পরিচালক তানভীর আহমেদ মোস্তফা বলেন, বাংলাদেশের খুচরা বাজার এখন একটি 'ইনফ্লেকশন পয়েন্ট'-এ রয়েছে। তিনি বলেন, "শহুরে জীবন এখন অনেক দ্রুতগতিসম্পন্ন, পরিবারগুলো ছোট হয়ে আসছে এবং মেট্রোরেল মানুষের সময় কাটানোর ধরণ বদলে দিচ্ছে। আমরা বিশাল কোনো সুপারস্টোর বানাচ্ছি না, বরং পাড়া-মহল্লার মানুষজনের জন্য 'কনভিনিয়েন্স স্টোর' বানাচ্ছি—যেখানে বাড়ি ফেরার পথে দ্রুত নাস্তা, কফি বা প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা যাবে।" তিনি জানান, এই মডেলটি টোকিও, সিউল বা লন্ডনের মতো শহরের ব্যবস্থা থেকে অনুপ্রাণিত কিন্তু ঢাকার প্রেক্ষাপটে উপযোগী করে তৈরি করা।

বাজারে বিদেশি খুচরা বিক্রেতাদের প্রবেশ

চলতি বছরের শুরুর দিকে ইন্দোনেশিয়ান রিটেইল জায়ান্ট 'আলফামার্ট' বাংলাদেশে খুচরা ব্যবসায় নামার জন্য কাজী ফার্মস গ্রুপ এবং মিতসুবিশি কর্পোরেশনের সাথে যৌথ উদ্যোগ গঠন করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই উদ্যোগে ৫০ মিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তীতে আরও ৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। যার মাধ্যমে বিপণীকেন্দ্র খোলা, গুদাম ও লজিস্টিকস ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এরই মধ্যে ঢাকায় তাদের প্রথম দিকের আউটলেটগুলো কাজ শুরু করেছে এবং চট্টগ্রামসহ অন্যান্য শহরেও এগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কাজী ফার্মস গ্রুপের পরিচালক কাজী জাহিন হাসান বলেন, আলফামার্টের উন্নত ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এই অংশীদারিত্বের অন্যতম মূল কারণ। তিনি বলেন, "তাদের সিস্টেমে রিয়েল-টাইমে প্রতিটি আউটলেটের বিক্রি এবং স্টকের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়। এতে পণ্যের অপচয় কমে এবং দক্ষতা বাড়ে।"

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিদেশি অপারেটররা আসায় তাদের উন্নত লজিস্টিকস, প্রযুক্তি এবং ডেটা-চালিত পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশের খুচরা সাপ্লাই চেইনের আরও আধুনিকায়ন হবে।

এখাতের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ফাস্ট-মুভিং কনজিউমার গুডস (এফএমসিজি) এবং খুচরা বাজারের আকার বর্তমানে ৮০ হাজার কোটি টাকারও বেশি এবং এটি বার্ষিক ১০-১২ শতাংশ হারে বাড়ছে। তবে সংগঠিত খুচরা বিক্রেতাদের দখলে এখনো মোট বাজারের মাত্র ৪-৫ শতাংশ রয়েছে। রিটেইল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই স্বল্প উপস্থিতিই আগামী দশকের বিশাল সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, কারণ আরও বেশি ভোক্তা এখন প্রথাগত বাজার ছেড়ে আধুনিক রিটেইল চ্যানেলের দিকে ঝুঁকছেন।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড 

  • সর্বশেষ