শিরোনাম
◈ ৯ বছরেও প্রত্যাবাসন হয়নি, রোহিঙ্গা সংকটে নতুন কৌশলের আহ্বান ◈ কোচিং সেন্টারে জড়াতে পারবেন না জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা: সুপ্রিম কোর্টের পরিপত্র জারি ◈ প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ◈ সম্পাদকদের সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক, যা নিয়ে আলোচনা হলো ◈ ইরানের সব ‘অর্থনৈতিক লাইফলাইন’ ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ◈ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি, দেশে প্রভাব পড়ার শঙ্কা কতটা? ◈ যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসার ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করার প্রস্তাব ◈ এশিয়ার যে দেশ সন্তান জন্ম দিলেই ৬৭ লাখ টাকা দেবে! ◈ প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মন্ত্রীরা অনুপস্থিত থাকলে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যারা থাকবেন ◈ এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দিয়ে আইনের খসড়া অনুমোদন

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৬ দুপুর
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

বৈশাখে ইলিশ আকাশছোঁয়া, সবজিতেও আগুন: মধ্যবিত্তের পান্তা-ইলিশ এখন স্বপ্ন

বিক্রেতারা জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশের দাম বেড়েছে ৩০০-৪০০ টাকা। গত সপ্তাহে ১ হাজার ২০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকায়, সেই ইলিশ এখন বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায়। ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। 

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী উৎসব পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ যেন এখন ধীরে ধীরে স্মৃতির গল্পে পরিণত হচ্ছে। প্রতিবছরের মতো এবারও বৈশাখকে ঘিরে ইলিশের চাহিদা তুঙ্গে উঠেছে, তবে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম আকাশছোঁয়া। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের কাছে ইলিশ এখন একপ্রকার বিলাসপণ্যে পরিণত হয়েছে।

রবিবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর হাতিরপুল, কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, বৈশাখ সামনে রেখে ইলিশের চাহিদা থাকলেও বাজারগুলোতে সরবরাহ কম। এতে ক্রেতারা পড়েছেন বিপাকে।

হাতিরপুল বাজারের মাছ বিক্রেতা সুমন বলেন, ‘ইলিশ মাছ ধরায় সরকারি অভিযান চলছে, তাই বৈশাখের আগেই ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ। সে জন্য মাছ আসেও না, আমরা ক্রেতাও পাচ্ছি না।’

রকি বণিক নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘আসলে ইলিশের দাম অন্য সময়ের চাইতে বেশি, মনমতো মাছ পাচ্ছি না। কিন্তু বৈশাখে তো ইলিশ ছাড়া জমে না। তাই অল্প হলেও কিনতে এলাম।’

বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক ফিরোজা আবিদ জানান, ‘আমি বাজার করতে এসেছি বৈশাখের। ভর্তা-ভাতের আয়োজন করব, তাই কিছু সবজি কিনলাম। আমরা মধ্যবিত্তরা পান্তা-ইলিশের কথা ভাবা বাদ দিয়েছি বেশ আগেই।’

অন্যদিকে সবজির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে নেই কোনো সবজি। অনেকেই এখন এক কেজির বদলে অল্প করে সবজি কিনে নিচ্ছেন। জ্বালানিসংকটে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে সবজির দাম বেড়েছে বলে দাবি করছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ সবজিই ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। ৭০-৮০ টাকার নিচে মিলছে দু-একটি সবজি। গোল ও লম্বা দুই ধরনের বেগুন কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পটোলের কেজি ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।

করলা ১০০-১২০, বরবটি ৮০-৯০, ঢ্যাঁড়স ৭০-৮০, চিচিঙ্গা ৮০-৯০, ধুন্দল ৬০-৮০, শিম ৮০-৯০, টমেটো ৫০, পেঁপে ৪০-৫০ ও লাউ ৮০-১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দাম দু-তিন দিন আগে কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা কম ছিল। তবে কেজিপ্রতি আলু এখনো ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা আরেক গৃহিণী সাফিয়া বলেন, ‘মাছ-মাংসের পরিবর্তে আগে সবজি খেয়ে চাহিদা পূরণ করা হতো। এখন সেটাও হয় না। ৮০-১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যায় না। আজ শুধু বেগুন, টমেটো, আলু কিনেছি। দুই দিন বাদেই বৈশাখ, এমন উৎসবে তো ভালোমন্দ খেতে মন চায়। কিন্তু সেটা ভাবতেও পারি না এখন।’ 

কাঁচাবাজারের বিক্রেতা হাবিব মিয়া বলেন, ‘দাম বাড়ার কারণ আমরাও তো বলতে পারি না। আমাদের বেশি দামে কিনতে হয় বলে খুচরা বাজারে দাম বেশি। যে টাকা নিয়ে আমরা মালামাল কিনতে যাই, তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে প্রায় সবকিছুর দাম বেড়েছে।’ 

বিক্রেতারা জানান, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানিসংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি নতুন সবজির সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। এসব কারণে পাইকাররা বেশি দামে সবজি বিক্রি করছেন। ফলে খুচরা পর্যায়েও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে বর্তমানে সরকার-নির্ধারিত এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা। অন্যদিকে খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা ও পাম তেলের নির্ধারিত দাম ১৬৪ টাকা। তবে বাজারে খোলা সয়াবিন ২০০ থেকে ২১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম স্থিতিশীল থাকলেও ঈদের পর থেকে রেকর্ড সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে সোনালি মুরগি। তবে গত সপ্তাহের চেয়ে এই সপ্তাহে দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। প্রতি কেজি সোনালি মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে। যেটা কদিন আগেও ৪৫০ টাকা ছিল। গরুর মাংস ৮০০ টাকা ও খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
 
অন্যদিকে বাজারে বেড়েছে ডিমের দাম। ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১১০ টাকার মধ্যে। সূত্র: খবরের কাগজ

  • সর্বশেষ