মনজুর এ আজিজ: চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে। এতে বিদ্যুতের চলমান সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করছে সরকার। বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সচিব এস এম শাকিল আখতার জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হয়েছে।
প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী ব্যয় বেড়েছে ২৫ হাজার ৭৫৯ কোটি ১৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় জানা গেছে, আগামী মার্চ থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৮ সালের জুনে প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। এটিকে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে একটি বড় সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের জুলাইয়ে। সংশোধিত মেয়াদ অনুযায়ী এটি চলবে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের মূল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ইউরেনিয়াম। বর্তমানে চারটি কুলিং টাওয়ার স্থাপনের কাজ চলছে। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে সংযোগের জন্য লাইন প্রস্তুতির কাজও এগিয়ে চলছে।
এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতি ইউনিটে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের দুটি ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট কার্বনমুক্ত বেসলোড বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যন্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডকে একটি দক্ষ অপারেটিং সংস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনবল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে কেন্দ্রটি নিরাপদ ও স্বতন্ত্রভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, যাচাই-বাছাই শেষে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনীতে মোট বরাদ্দ থেকে ১৬৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় কমানো হয়েছে। সংশোধিত প্রকল্প অনুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ২১ হাজার ৮৮৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। বাকি ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৯৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা আসবে প্রকল্প সহায়তা থেকে। প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে পরিকল্পনা কমিশনের নথিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেএসসি এটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞ জনবল দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় যন্ত্রপাতি সরবরাহে দেরি হয়েছে।
এ ছাড়া এটি দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়ায় পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে নতুন অনেক বিষয় সামনে আসে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেবা চুক্তিসহ এসব নতুন বিষয় যুক্ত করতে গিয়ে অনুমোদিত ডিপিপিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি মার্কিন ডলার ও টাকার বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে বিদেশি ঋণের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় বেড়েছে। এসব কারণেই প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ সংশোধন করা হয়েছে।