শিরোনাম
◈ পাঠ্যবইয়ে আসছে বড় পরিবর্তন, দুই শ্রেণিতে নতুন চার বই ◈ মিত্রদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি: বাস্তবায়ন হবে ৩১ দফা ও জুলাই সনদ ◈ ইতালির স্বপ্ন ভেঙে লিবিয়ায় বন্দিদশা, মুক্তিপণে দেড় কোটি টাকা দাবি ◈ প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ মানদণ্ডে ব্যর্থ, বাজার থেকে ৮ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের ◈ আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় ওষুধের মূল্য নির্ধারণ থমকে গেছে: বাজারে আসছে না নতুন ওষুধ, হুমকিতে বিপুল বিনিয়োগ ◈ নেপালকে হারিয়ে সিরিজে ২-১এ এগি‌য়ে গে‌লো বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল ◈ ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা নিশ্চিতে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ ◈ মিয়ানমার সীমান্তে ১০৮ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া, প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ মেসির সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করেছে আর্জেন্টিনা: বিবিসির বিশ্লেষণ

প্রকাশিত : ২০ জুলাই, ২০২৬, ০৪:১৭ সকাল
আপডেট : ২০ জুলাই, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কাজের আশ্বাস, শেষে ডান্স ক্লাব ও যৌ.ন শোষণের ফাঁদ

কম বয়সি, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও অসচ্ছল নারীরাই এখন মানব পাচারকারীদের প্রধান টার্গেট। তুলনামূলক কম শিক্ষিত ও দরিদ্র নারী-কিশোরীদের উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নেওয়া হচ্ছে। রেস্টুরেন্ট, হাসপাতাল বা পোশাক কারখানায় কাজের আশ্বাস দিলেও সেখানে পৌঁছে অনেককে জোরপূর্বক ডান্স ক্লাব, যৌন ব্যবসা ও ম্যাসাজ পারলারে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অস্বীকৃতি জানালে চলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, অনেকেই যৌন সহিংসতার শিকার হন। দেশে ফিরে আসা ভুক্তভোগীদের বড় অংশ অপুষ্টি, যৌনরোগ ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ট্রমায় ভুগছেন।

আইএলওর র‌্যাপিড অ্যাসেসমেন্ট অন চাইল্ড ট্রাফিকিং ইন বাংলাদেশ-২০২৩ অনুযায়ী, জাতীয় দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারের মেয়ে ও নারীদের পাচারের ঝুঁকি অন্যদের                 তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। শিক্ষার সুযোগের অভাব, পারিবারিক ঋণের চাপ এবং কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে অনেক পরিবার মেয়েদের বিদেশে কাজে যেতে বাধা দেয় না। অনেক ক্ষেত্রে পাচারকারী চক্র অভিভাবকদের অর্থ বা মূল্যবান সামগ্রী দিয়ে প্রভাবিত করে।

প্রলোভন থেকে নির্যাতনের শিকার : কেরানীগঞ্জের ২৩ বছর বয়সি আসমা আক্তার (ছদ্মনাম) এমনই এক ভুক্তভোগী। মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতনে রেস্টুরেন্টে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তিন বছর আগে তাকে ভ্রমণ ভিসায় দুবাই নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছেই তার পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয় এবং ডান্স ক্লাবে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। সারা রাত কাজ, ঘুমহীন জীবন এবং অতিথিদের মনোরঞ্জন করতে না পারলে নির্যাতন ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। অবশেষে দেশে ফিরলেও পাচারকারী চক্রের সদস্যদের কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে তাকে ফিরতে হয়। পাওনা ১৮ লাখ টাকার পরিবর্তে দেওয়া হয় মাত্র ২ লাখ টাকা। পরে বাকি টাকা ও পাসপোর্ট ফেরতের আশ্বাস দিয়ে আবারও দুবাই পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। গত ১৪ মে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পুলিশ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আসমাকে উদ্ধার করে এবং পাচারকারী চক্রের সদস্য আবদুল হান্নানকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে মানব পাচারের অভিযোগেও তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে আসমা বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।

১৩ বছরের কিশোরীও রক্ষা পায়নি : ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ বছর বয়সি বাংলাদেশি কিশোরী রুপালি (ছদ্মনাম) আত্মীয়ের মাধ্যমে ভারতে পাচারের শিকার হয়। বেড়ানোর কথা বলে তাকে প্রথমে কলকাতা, পরে আহমেদাবাদে নিয়ে বিক্রি করা হয়। একাধিক হাতবদলের পর ৪০ হাজার টাকায় তাকে আরেক নারীর কাছে বিক্রি করা হয়। সেখানে গৃহকর্মীর কাজ করার পাশাপাশি মালিকের ছেলের যৌন নির্যাতনের শিকার হয় সে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারত-বিস্তৃত পাচার নেটওয়ার্ক : বাংলাদেশ পুলিশ ও জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ভারত, পাকিস্তান, লেবানন, জর্ডান, লিবিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে নারী পাচার করা হচ্ছে। অনেককে জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা হচ্ছে, আবার অনেককে যৌন শোষণের শিকার হতে হচ্ছে।

‘শ্রমিক পাঠানোর আড়ালে চলছে নারী পাচার’ : রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট (রামরু)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দিকী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর আড়ালে নারী পাচারের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজের কথা বলে পাঠানো অনেক নারী জোরপূর্বক শ্রমে নিযুক্ত হচ্ছেন। আবার ভারতে নেওয়া অনেক নারী বন্দিদশায় থেকে যৌন শোষণের শিকার হচ্ছেন।’ তিনি বলেন, মানব পাচার মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা রয়েছে। দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষীর অভাব এবং পরে সমঝোতার কারণে অনেক মামলা ভেঙে পড়ে। আন্তর্জাতিক পাচার চক্র দমনে জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানের মতো সমন্বিত ও কঠোর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি বিদেশগামী নারী শ্রমিকদের বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। উৎস: বিডি-প্রতিদিন।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়