শিরোনাম
◈ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক খেলা চলছে: ওবায়দুল কাদের ◈ হত্যাচেষ্টার অভিযোগ: থানায় জিডি করলেন চিত্রনায়িকা বুবলি ◈ দাম কমলো সয়াবিন তেলের  ◈ যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী  ◈ সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৭৬, নিহতদের এক-পঞ্চমাংশের বেশি পথচারী ◈ ‘অর্থনীতিসহ সার্বিক পরিস্থিতি নাজুক হওয়ায় দেশ এখন দেউলিয়ার পথে’ ◈ বঙ্গোপসাগরে চলতি মাসে ২-১টি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে: আবহাওয়া অধিদপ্তর ◈ প্রেস ক্লাবে তোয়াব খানের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত ◈ নেতাকর্মীদের পুলিশের সামনে ঠেলে দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায় বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী ◈ সব আন্দোলনে নেতৃত্ব দিবেন বেগম খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০৩:২৫ দুপুর
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০৩:২৫ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

টাঙ্গাইলে প্রস্তুত দূর্গাপূজার ১২৮৪ টি মন্ডপ, সাথে ব্যস্ত শিল্পীরা

প্রতিমা তৈরীতে ব্যাস্ত শিল্পীরা

অলক কুমার, টাঙ্গাইল : সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজা। চলতি বছর টাঙ্গাইলে ১২৮৪টি মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আর এই উৎসবকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মন্ডপ তৈরি থেকে ঘিরে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন টাঙ্গাইলের শিল্পীরা। আগামী (১ অক্টোবর) থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

টাঙ্গাইল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে, এ বছর টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় এক হাজার ২৮৪টি পূজা মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। জেলার সদর উপজেলার পূজা মন্ডপে ২০৭টি, বাসাইলে ৬৫টি, সখিপুরে ৫৩টি, মির্জাপুরে ২৫৬টি, নাগরপুরে ১৩২টি, দেলদুয়ারে ১২৭টি, গোপালপুরে ৫০টি, ভূঞাপুরে ৪০টি, কালিহাতীতে ১৯০টি, ঘাটাইলে ৮১টি, মধুপুরে ৫০টি ও ধনবাড়ীতে ৩৩টি পূজা মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

গত বছর পূজা মন্ডপের সংখ্যা ছিল ১২৪৩টি ও চলতি বছর ১২৮৪টি। গত বছরের চেয়ে ৪১টি মন্ডপ বেশি। জেলার তারুটিয়া প্রতিমা তৈরির কারখানাসহ বিভিন্ন মন্ডপে ঘুরে দেখা গেছে, তারুটিয়া কারখানায় শিল্পীরা প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। কেউ দেবীর গায়ে দিচ্ছেন তুলির আঁচড় আবার কেউ ব্যস্ত প্রতিমার গায়ে কাঁদা মাটির প্রলেপ লাগাতে।

তারুটিয়া এলাকার প্রতিমা তৈরির কারিগর বসন্ত পাল বলেন, আমি প্রায় ২০ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। এবার আমি ১০টি প্রতিমা তৈরি করেছি। আমার কারখানায় দুই-তিনজন কর্মচারীসহ পরিবারের লোকজন নিয়ে প্রতিমা বানাচ্ছি।

বর্তমানে খড়, বাঁশ, মাটি, লোহাসহ সব কিছুর দাম আগের তুলানায় অনেক বেশি। সব কিছুর দাম বাড়ার কারণে আমাদের এখন পোষে না। জাতিগত কাজ এজন্য করতে হয়। কারিগর সন্ধ্যা রানী পাল বলেন, আমি পরিবারের কাজকর্ম করে যে সময়টুকু থাকে আমার স্বামীর সাথে প্রতিমা তৈরি কাজে সাহায্য করি।

সামনে ৩০ সেপ্টেম্বর পঞ্চমী। পঞ্চমীর রাতের আগেই আমাদের প্রতিমার সব কাজ শেষ করতে হবে। এজন্য আমরা এখন খুব ব্যস্ত সময় পার করছি। দুলাল পাল বলেন, এ বছর ১০টি প্রতিমা তৈরি করেছি। এখন রঙ তুলির কাজ চলছে। মাটির কাজ সব শেষ করছি।

এ পর্যন্ত চারটি রঙ করছি। ছয়টি প্রতিমা বাকি আছে রঙ করার জন্য। আমরা দিনরাত জেগে কাজ করছি। কাজ করতে গিয়ে আমাদের অন্য কোনো দিকে নজর দেওয়ার সুযোগ নেই। খাওয়া দাওয়ারও কোনো ঠিক নাই।

প্রতিমা শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি প্রতিমা তৈরি করতে শিল্পীদের সর্বনিন্ম ২৫-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। সর্বোচ্চ তিন-চার লাখ টাকা খরচ হচ্ছে এ বছর। প্রতিমা তৈরির জন্য তাদের ৩ থেকে ৪ ভ্যান মাটি লাগে। খড়ের আউর লাগে ৫ থেকে ৬ পৌন।

এছাড়াও কাঠ, বাঁশ, দড়ি, পেরেক, সুতা ও ধানের গুড়াসহ বিভিন্ন জিনিসের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে প্রতি ভ্যান মাটিতে তাদের খরচ হয় ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, প্রতি পৌন আউরে খরচ হয় পাঁচশ’ টাকা থেকে ছয়শ’ টাকা। আর বাকি জিনিসগুলোর জন্য খরচ হয় ৪ থেক ৫ হাজার টাকার মতো।

আগের থেকে সব কিছুর জিনিসপত্রের দাম বেশি। একটি প্রতিমা তৈরি করতে সময় লাগে ১০ থেকে ১২ দিন। প্রতিমা তৈরিতে চার থেকে পাঁচজন শিল্পী একসঙ্গে কাজ করেন।

একেকজন শিল্পী প্রতিমার এক এক কাজে হাত দেন বলেও জানান প্রতিমা শিল্পীরা। টাঙ্গাইল পূর্ব আদালত পাড়ার বড় কালিবাড়ী গিয়ে দেখা যায়, শিল্পী নিশি কান্ত পাল প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

তিনি বলেন, এ ছাড়াও আরও পাঁচটি প্রতিমা রঙ করার বাকি আছে। সাত-আট দিনের মধ্যে এগুলোর কাজও শেষ
হবে।

টাঙ্গাইল পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার গুন ঝন্টু জানান, এ বছর জেলার ১২টি উপজেলায় মোট ১২৮৪টি পূজা মন্ডপে পূজা হবে।

এ জন্য মন্দিরে বিভিন্ন কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। সম্পাদনায়: আল আমিন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়