শিরোনাম
◈ দুর্বৃত্তের গুলিতে মিরপুরে যুবদল কর্মী নিহত, পথচারী গুলিবিদ্ধ ◈ মতিঝিলে নিষ্ক্রিয় করা বোমা ছিল আইআইডি: ডিএমপি ◈ ‘মেয়েটি গাজী নজরুলের সেবা করতে চেয়েছিল’, জামায়াতের আরেক এমপি (ভিডিও) ◈ স্বাধীনতার পর ১৮ রাষ্ট্রপতির মধ্যে মাত্র ৮ জন শেষ করেছেন পূর্ণ মেয়াদ ◈ রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়ার পর কী কী সুবিধা পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন? ◈ দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে: ইসি মাছউদ ◈ ভারতীয় নাগরিকদের ভিসামুক্ত সুবিধা প্রত্যাহার, নতুন নিয়ম ৪ দেশে ◈ প্রথমবারের মতো দেশেই নির্মিত হচ্ছে সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ ◈ মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতরে মিলল বোমা ◈ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগে জাতির ঘাড় থেকে স্বৈরাচারের কালো ছায়া সরে গেছে: শফিকুর রহমান

প্রকাশিত : ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:২২ রাত
আপডেট : ২৫ জুলাই, ২০২৬, ০১:৩৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

স্বাধীনতার পর ১৮ রাষ্ট্রপতির মধ্যে মাত্র ৮ জন শেষ করেছেন পূর্ণ মেয়াদ

স্বাধীনতার পর থেকেই একের পর এক হত্যাকাণ্ড, সামরিক অভ্যুত্থান, সাংবিধানিক পরিবর্তন, আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় বারবার সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১৮ জন পূর্ণাঙ্গ, ভারপ্রাপ্ত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে, তাদের মধ্যে ১০ জনের কার্যকাল সমাপ্তি হয়েছে আকস্মিকভাবে।

রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালে দুজন নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্দোলনের কারণে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন কিংবা বঙ্গভবন ছাড়তে হয় ৮ জনকে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের ঘোষণা দেওয়া সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান—দুজনই রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালে নিহত হন। দুজনকে গুলি করে হত্যা করে সামরিক বাহিনীর একটি অংশ।

সবশেষ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ শুক্রবার পদত্যাগ করার মধ্য দিয়ে পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে না পারা রাষ্ট্রপতিদের তালিকায় যুক্ত হলেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করে শপথ নিয়েছিল মুজিবনগর সরকার। তিনি পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকায় তার পরিবর্তে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি করা হয়। ১৯৭৩ সালের ১০ এপ্রিল তিনি পুনরায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ওই বছরের ডিসেম্বরে তিনি পদত্যাগ করে মন্ত্রী পদমর্যাদায় সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে নিযুক্ত হন।

তার পদত্যাগের পর ১৯৭৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর স্পিকার মোহাম্মদউল্লাহ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরের বছরের ২৭ জানুয়ারি তিনি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন এবং ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে বাকশাল গঠনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি হওয়া পর্যন্ত মোহাম্মদউল্লাহ এ পদে বহাল ছিলেন।

বাকশালের মাধ্যমেই বাংলাদেশ সংসদীয় শাসনব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রপতি-শাসিত সরকার ব্যবস্থার দিকে যায়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়।

এ হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতি হন। ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন এবং বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল সায়েম পদত্যাগ করার পর জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে পর্যন্ত জিয়াউর রহমান দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি হন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে নিহত হন জিয়াউর রহমান।

তার হত্যাকাণ্ডের পর আবদুস সাত্তার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। পরে ১৯৮১ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থান হলে রাষ্ট্রপতি সাত্তার ক্ষমতাচ্যুত হন।

এরশাদ নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ঘোষণা করেন এবং বিচারপতি আবুল ফজল মোহাম্মদ আহসানউদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি পদে বসান। আহসানউদ্দিন চৌধুরী ১৯৮২ সালের ২৭ মার্চ থেকে ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর এরশাদ নিজেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। ১৯৮৬ সালের অক্টোবরে তার প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি ৫ বছরের মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এরশাদ।

এরশাদের পদত্যাগের জন্য তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে উপরাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন এবং ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ছিলেন।

১৯৯১ সালে দেশ পুনরায় সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে আসে।

বিএনপি সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর মন্ত্রিসভার সদস্য আবদুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

পরে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর সাহাবুদ্দীন আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে। ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর তিনি শপথ নেন এবং ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার মেয়াদ শেষ করেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ২০০২ সালের ২১ জুন পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপির সংসদীয় দল তাকে সরে দাঁড়াতে বলার পর তিনি পদত্যাগ করেন।

দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার মাজার জিয়ারত না করার কারণে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর কড়া সমালোচনা করেছিল বিএনপি।

তার পদত্যাগের পর তৎকালীন স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিএনপির সমর্থনে ২০০২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ।

২০০৬ সালের শেষ দিকে ইয়াজউদ্দিন সংবিধান লঙ্ঘন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণ করেন, যা দেশকে এক গভীর রাজনৈতিক সংকটে ফেলে দেয়।

অবশেষে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর তিনি প্রধান উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এতে ২২ জানুয়ারি নির্ধারিত সংসদ নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।

পরদিন তিনি ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে একটি নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করেন।

২০০৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ইয়াজউদ্দিনের রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হলেও, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি পদে বহাল ছিলেন। ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২০১৩ সালের ২০ মার্চ জিল্লুর রহমান মারা যান। রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালে একমাত্র তারই স্বাভাবিক মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগের আরেক নেতা ও তৎকালীন স্পিকার আবদুল হামিদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন। তিনি ২০১৩ সালের ২০ মার্চ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরে আওয়ামী লীগের সমর্থনে পরপর দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আবদুল হামিদ।

এরপর, দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। ১৯৭৫ সালে পাবনা জেলা বাকশালের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতি পদ হুমকির মুখে পড়ে। বিভিন্ন সময়ে তার পদত্যাগ বা অপসারণ নিয়ে গুজব ও জল্পনা-কল্পনা চলে।

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে অবশেষে তিনি পদত্যাগ করলেন।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর পূর্ববর্তী শাসনব্যবস্থার একমাত্র সাংবিধানিক পদধারী ব্যক্তি হিসেবে তিনিই স্বপদে বহাল ছিলেন। উৎস: ডেইলি স্টার।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়