আবুল কাশেম রুমন, সিলেট প্রতিনিধি : দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর এবার নতুন পরিকল্পনায় পার্কটি সংস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি করর্পোরেশন (সিসিক)। সংস্কারের পর নাম দেওয়া হবে ‘জালালাবাদ সিটি পার্ক।
জানা যায়, ২০০৫ সালে জালালাবাদ পার্কের জায়গায় ১৬ তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সিসিক। পরিবেশবাদী সংগঠন ও নগরবাসীর প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে কর্তৃপক্ষ। পরে নাগরিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পার্কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১০ সালের দিকে সীমানা নির্ধারণ ও প্রবেশপথ নির্মাণের পর জায়গাটি সাধারণ মানুষের হাঁটাচলার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
এরপর পার্কটিকে শিশুপার্কে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিনোদনসামগ্রী স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়। একই সময়ে সম্মুখ ভাগে উঁচু দেয়াল নির্মাণ নিয়েও নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে। তাদের আশঙ্কা ছিল, অতিরিক্ত উঁচু দেয়াল পার্কটির উন্মুক্ত পরিবেশ ও দৃশ্যমানতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
অবশেষে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর আবার সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) নগর ভবনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পার্কটি পরিদর্শন করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত সংস্কার কাজ শুরুর নির্দেশ দেন। নতুন পরিকল্পনায় শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি বয়স্কদের হাঁটা ও শরীরচর্চার সুযোগ রাখা হবে। থাকবে বসার স্থান, সবুজায়ন ও বিনোদনের পরিবেশ। একই সঙ্গে পরিবর্তন করা হবে পার্কের প্রবেশপথ ও সীমানাপ্রাচীর।
নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত পার্কটির এক পাশে সিলেট সার্কিট হাউস, অন্য পাশে জেলা পরিষদ। সামনে ঐতিহাসিক ক্বীন ব্রিজ, পাশেই সুরমা নদী ও আলী আমজাদের ঘড়িঘর। ফলে নগরবাসীর পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও স্থানটির গুরুত্ব রয়েছে।
সিসিক প্রশাসক বলেন, সাগর দিঘীর পাড়ে সিসিকের উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ যান এবং সুন্দর সময় কাটান। এবার জালালাবাদ পার্কটি দ্রুত জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি বয়স্কদের হাঁটা ও শরীরচর্চার উপযোগী করে পার্কটি সাজানো হবে।
তবে অতীতের অভিজ্ঞতায় এবার বড় প্রশ্ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে। বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ থেকে শিশু পার্ক একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও পার্কটির স্থায়ী ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি। তাই নগরবাসীর প্রত্যাশা, এবার শুধু নাম পরিবর্তন বা সৌন্দর্যবর্ধন নয়, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও উন্মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে ৯৪ শতকের এই উদ্যানকে দীর্ঘ মেয়াদে সচল রাখা হবে।