শিরোনাম
◈ হাসিনার ইস্যু ও প্রধানমন্ত্রীর সফর স্থগিত, তবু বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক চায় ভারত : এনডিটিভির প্রতিবেদন ◈ গ্রিসে ৭৭ জন অভিবাসী নিয়ে নৌকা ডুবি ◈ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বড় পরিকল্পনা: ১৫০ কূপ খনন, বাড়ছে এলএনজি সক্ষমতা ◈ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দূতাবাসের ◈ দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে ইতিহাস গড়লেন জার্মা‌নির আ‌লেকজান্ডার জভেরেভ ◈ ইংল‌্যা‌ন্ডে ভরাডুবির পর জোড়া শাস্তিও পেলো পাকিস্তান ক্রিকেট দল ◈ ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল জামায়াত ◈ আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতায় ১,২৭৬ কোটি টাকার প্রকল্প ◈ নতুন পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে উদ্বেগ, খসড়া এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে যায়নি ◈ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণ গেল ১৫৭ জনের

প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:১৪ রাত
আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:১১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুরে মধুমতির ভাঙনে বিলীন আশ্রয়ণ প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রাম

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের চাপুলিয়া এলাকায় মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামের ঘরবাড়ি। নদীগর্ভে শেষ সম্বল হারিয়ে অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মধুমতি নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে দ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চাপুলিয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

advertisement

এ অবস্থায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসনের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।

গত শনিবার মধুমতি নদীর তীরে স্থানীয় তরুণ আকিব আহমেদের আহ্বানে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা শরিফুল ইসলাম জুয়েল, স্থানীয় বাসিন্দা নিয়ামুল মোল্যা, তাইফুর হোসেন, সোহাগ মোল্যাসহ অনেকে।

advertisement

বক্তারা বলেন, পাশের নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ড্রেজার ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে মধুমতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন। এর ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন তীব্র হয়েছে। একসময় যে গুচ্ছগ্রামটি নদী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ছিল, সেটিই এখন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১১-১২ অর্থবছরে চাপুলিয়া গ্রামের সরকারি খাসজমিতে ১৩০টি পরিবারের জন্য গুচ্ছগ্রামটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের সময় নদী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে থাকলেও ২০২১ সাল থেকে মধুমতির ভাঙন শুরু হলে ধীরে ধীরে প্রকল্পের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

advertisement

স্থানীয়রা জানান, গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের অনেকেই আগে থেকেই ভূমিহীন ও গৃহহীন ছিলেন। সরকারি উদ্যোগে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেও নদীভাঙনে সেই আশ্রয়টুকুও হারিয়েছেন তারা। এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে, কেউ রাস্তার পাশে কিংবা খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।

টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান বলেন, অসহায় মানুষগুলোর চোখের সামনে ঘরবাড়ি হারিয়ে গেছে। তাদের জন্য দ্রুত জরুরি সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মজিবর রহমান বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকাটি রক্ষায় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্টাডি রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্লা বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের দাবি, শুধু সাময়িক সহায়তা নয়, মধুমতির ভাঙন স্থায়ীভাবে রোধে দ্রুত নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি নদীগর্ভে বিলীন হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

  • সর্বশেষ