শিরোনাম
◈ হাসিনার ইস্যু ও প্রধানমন্ত্রীর সফর স্থগিত, তবু বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক চায় ভারত : এনডিটিভির প্রতিবেদন ◈ গ্রিসে ৭৭ জন অভিবাসী নিয়ে নৌকা ডুবি ◈ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বড় পরিকল্পনা: ১৫০ কূপ খনন, বাড়ছে এলএনজি সক্ষমতা ◈ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দূতাবাসের ◈ দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে ইতিহাস গড়লেন জার্মা‌নির আ‌লেকজান্ডার জভেরেভ ◈ ইংল‌্যা‌ন্ডে ভরাডুবির পর জোড়া শাস্তিও পেলো পাকিস্তান ক্রিকেট দল ◈ ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল জামায়াত ◈ আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতায় ১,২৭৬ কোটি টাকার প্রকল্প ◈ নতুন পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে উদ্বেগ, খসড়া এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে যায়নি ◈ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণ গেল ১৫৭ জনের

প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:১১ রাত
আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:৪০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইলিশ-শাপলায় ফিরছে বাঙালির রসনা

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের  উপকূলেইলিশের সঙ্গে শাপলা—বাঙালির রসনার এক চিরচেনা জুটি। একসময় গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে ইলিশের ঝোলে শাপলার উপস্থিতি ছিল খুবই স্বাভাবিক। সময়ের সঙ্গে সেই খাবারের অভ্যাসে পরিবর্তন এলেও বাঙালির রসনায় শাপলার কদর কমেনি। বরং ইলিশের দাম কিছুটা কমে আসার এই সময়ে বাগেরহাটের চিতলমারীর বিভিন্ন হাট-বাজারে বেড়েছে শাপলার বিক্রি।

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দিকে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লে দামও কিছুটা কমে আসে। তখন ইলিশের সঙ্গে শাপলা কিনতে আগ্রহী হন ক্রেতারা। সম্প্রতি বাগেরহাটের চিতলমারীর বাখরগঞ্জ, দেপাড়াসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি শাপলারও বেশ চাহিদা রয়েছে।

advertisement

ব্যবসায়ীরা জানান, বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও গোপালগঞ্জ ও আশপাশের জেলা থেকে শাপলা সংগ্রহ করে চিতলমারীর বাজারগুলোতে বিক্রি করা হচ্ছে। আবার এসব বাজার থেকে পাইকাররা শাপলা নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন জেলা ও রাজধানীর বাজারে।

বাখরগঞ্জ বাজারে শাপলা বিক্রি করতে আসা সাইফুল শেখ বলেন, বাগেরহাটের ফয়লা এলাকা থেকে পাইকারি দরে শাপলা কিনে তিনি চিতলমারীর বিভিন্ন হাটে বিক্রি করেন। ইলিশের দাম কিছুটা কমে আসায় শাপলার চাহিদাও বেড়েছে। ফলে শাপলা বিক্রি করে তারা ভালো দাম পাচ্ছেন।

advertisement

গোপালগঞ্জ থেকে শাপলা বিক্রি করতে আসা আনিসুল বলেন, মিষ্টি পানির বিলের শাপলা স্বাদে ভালো হওয়ায় এর চাহিদা বেশি। বিভিন্ন বিল থেকে স্থানীয়রা শাপলা তুলে তাদের কাছে বিক্রি করেন। পরে সেগুলো রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার বাজারে পাঠানো হয়। বর্তমানে প্রতি আঁটি শাপলা প্রায় ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় রসনাবিলাসী বাবলু মণ্ডল বলেন, জাতীয় ফুল হিসেবে শাপলার পরিচিতি থাকলেও সবজি হিসেবেও এর স্বাদ অতুলনীয়। ছোট চিংড়ি দিয়ে শাপলার ভাজি যেমন সুস্বাদু, তেমনি ইলিশের সঙ্গে রান্না করলে এর স্বাদ আরও বেড়ে যায়।

advertisement

তিনি বলেন, একসময় চিতলমারীর আশপাশের খাল-বিলে প্রচুর শাপলা পাওয়া যেত। এখন চিংড়ি চাষসহ বিভিন্ন কারণে স্থানীয়ভাবে শাপলার প্রাপ্যতা কমেছে। ফলে বাইরের এলাকা থেকে শাপলা এনে বাজারের চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইলিশের সঙ্গে শাপলার এই চাহিদা শুধু একটি মৌসুমি খাদ্যাভ্যাস নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামবাংলার পুরোনো খাদ্যসংস্কৃতি। বাজারে ইলিশের সরবরাহ ও দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকলে শাপলার বিক্রিও বাড়ে।

খাল-বিলের মিষ্টি পানিতে বেড়ে ওঠা শাপলা এখন শুধু গ্রামের মানুষের খাবার নয়; বিভিন্ন জেলা পেরিয়ে রাজধানীর বাজারেও যাচ্ছে। আর ইলিশের সঙ্গে শাপলার পুরোনো এই জুটি এখনও যে বাঙালির রসনায় জীবন্ত— বাগেরহাটের হাট-বাজারের ব্যস্ততাই তার প্রমাণ।

  • সর্বশেষ