ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালা থেকে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এক ছাত্র।
আজ সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে ছবি তিনটি ছিঁড়ে ফেলেন শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার।
আবু তৈয়ব হাবিলদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষে। তখন তিনি স্নাতক শেষ করতে পারেননি। আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে ছাত্রলীগের নির্যাতন, নিপীড়ন ও নির্মমতার শিকার ছাত্র-ছাত্রীরা অনেকেই ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে পুনর্ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। সে সময় তিনিও আবার ভর্তি হন বলে জানিয়েছেন আবু তৈয়ব হাবিলদার। তিনি এখন উর্দু বিভাগের নিয়মিত শিক্ষার্থী। সবশেষ ডাকসু নির্বাচনে তিনি সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
আবু তৈয়ব সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে জিন্নাহ আমাদের মাতৃভাষার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, যে জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রেপ্তার করেছিল, সেই জিন্নাহ ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না।’
আবু তৈয়ব বলেন, ডাকসুর নির্বাচনী ইশতেহারে জিন্নাহকে নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠার কোনো কথা ছিল কি না। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহসহ বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে শিবির। তিনি আরও বলেন, ‘এই ডাকসুতে, এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, এই বাংলাদেশে জিন্নাহর মতো কোনো ভিলেন, গোলাম আজম-নিজামীর মতো কোনো ভিলেন আমাদের নায়ক হতে পারে না, নায়ক হতে দেব না।’
সংস্কার শেষে গতকাল রোববার সংগ্রহশালা চালু করে ডাকসু। যেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক বা গৌরবোজ্জ্বল ছবি রাখা হয়নি। নতুন করে যুক্ত করা হয় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি। এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’।
স্থান পায় ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি, যেখানে জিন্নাহ রয়েছেন। অপর ছবিটি ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে জিন্নাহর ছবি–সংবলিত পাকিস্তানের ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিং।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলার দুই ঘণ্টা পর ডাকসু ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ। জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের এই নেতা বলেন, ‘জিন্নাহর ছবি রাখার পাশাপাশি ছবির নিচে তাঁর বাংলা ভাষার বিরোধী অবস্থানের বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। জিন্নাহর ছবি না দিলে বলা হতো, তাঁর বাংলা ভাষার বিরোধী অবস্থান আমরা লুকিয়েছি। আবার ছবি দিয়ে তাঁর সেই বক্তব্য উল্লেখ করায় বলা হচ্ছে ছবি সরাতে হবে।’
জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা নিয়ে ফরহাদ বলেন, ‘যিনি ছবিটি ছিঁড়েছেন, তিনি উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী। এ কারণে তিনি জিন্নাহর প্রতি আলাদা দরদ থেকে এমনটি করে থাকতে পারেন।’