মনিরুল ইসলাম : একসময় দেশের চলচ্চিত্রের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) এখন যেন হারিয়েছে তার সেই জৌলুস। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট অনেকেই আক্ষেপ করে বলছেন—“আগে ছিল চলচ্চিত্র এফডিসি, এখন হয়েছে তাল গাছের গোড়া।” সন্ধ্যা নামার পরই যে প্রাঙ্গণে থাকত শুটিংয়ের ব্যস্ততা, আলো-ঝলমল পরিবেশ আর শিল্পী-কলাকুশলীদের পদচারণা—সেই জায়গা এখন পড়ে থাকে প্রায় নিঃশব্দ ও জনশূন্য।
চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একসময় এফডিসির বিভিন্ন ফ্লোরে একসঙ্গে একাধিক সিনেমার শুটিং চলত। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরিচালক, শিল্পী, লাইটম্যান, মেকআপম্যানসহ নানা পেশার মানুষের ব্যস্ততায় মুখর থাকত পুরো এলাকা। কিন্তু বর্তমানে প্রযোজনার সংখ্যা কমে যাওয়ায় সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে।
বিশেষ করে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও নীরব হয়ে ওঠে। অনেকেই জানান, এমন সময় এফডিসির ভেতরে কয়েল জ্বালানোর মতো কাউকেও খুঁজে পাওয়া যায় না। যেখানে একসময় রাতভর কাজ চলত, এখন সেখানে নেই তেমন কোনো কার্যক্রম।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, সিনেমা নির্মাণ কমে যাওয়া, বিনিয়োগ সংকট, মানসম্মত গল্পের অভাব, আধুনিক প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা এবং বিকল্প প্ল্যাটফর্মের প্রসার—সব মিলিয়ে এফডিসির কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। ফলে প্রজন্মের অনেক নতুন শিল্পী ও নির্মাতাও এফডিসিমুখী হচ্ছেন না।
তবে আশার কথাও শোনাচ্ছেন কেউ কেউ। তাদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিলে এফডিসি আবারও ফিরে পেতে পারে তার হারানো ঐতিহ্য। নতুন প্রজন্মের নির্মাতা ও প্রযুক্তিনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে গুরুত্ব দিলে এই প্রাচীন প্রতিষ্ঠান আবারও প্রাণ ফিরে পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এফডিসির এই নীরবতা তাই শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান অবস্থার প্রতিচ্ছবিই তুলে ধরছে।