মনিরুল ইসলাম : দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার—এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন গ্যাসকূপ খনন থেকে শুরু করে এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ—সবক্ষেত্রেই বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়-এর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি। ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক এ বৈঠকে দেশের ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, দেশে বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ)-এর ওপর নির্ভরতা থাকলেও এর একটি দীর্ঘদিন কারিগরি ত্রুটির কারণে অচল ছিল। সরকার সেটি মেরামতের পাশাপাশি ২০২৮ সালের আগেই তৃতীয় এফএসআরইউ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে এই সংখ্যা পাঁচটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি জানান, গ্যাস সংকটের টেকসই সমাধানে মধ্যমেয়াদে দেশে প্রায় ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খনন করা হচ্ছে। এই ধাপ সফল হলে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং জাতীয় গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তেল, গ্যাস ও কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্য আনার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎকে ভবিষ্যতের প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।
বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী নেতারা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চলমান সংকটের কথা তুলে ধরেছেন জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাত একে অপরের পরিপূরক হয়ে কাজ করলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্যোক্তাদের নীতিগত পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের নানা কাঠামোগত দুর্বলতা ও সঞ্চিত সংকট একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। তবে সরকারের সদিচ্ছা, পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ধাপে ধাপে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্রখাতের মন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের একটি অংশও সভায় অংশ নেন।
পরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা ও শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন।
ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে ছিলেন, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ঢাকার প্রেসিডেন্ট কামরান টি. রহমান, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র ডিরেক্টর শামস জামান, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রাজিব এইচ চৌধুরী, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানি কারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হাসান খান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট আবুল কালাম, ফুটওয়্যার লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাকারিয়া শহীদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট আবদুল মুক্তাদির, বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসর্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মাহবুব আনাম, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শামীম আহমেদ, বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ময়নুল ইসলাম, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন, বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এম শাহাদাত হোসেন সোহেল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার, বাংলাদেশ ইনসিওরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ এবং রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট আলী আফজাল।
এছাড়া দৈনিক মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইংরেজি দৈনিক ওয়াদা’র সম্পাদক শফিকুল আলম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, মোস্তাফা ফিরোজ, আব্দুন নূর তুষার, আকবর হোসেন, শাহেদ আলম, রেজাউল করিম রনি, আজিজুর রহমান রিপন, তরিকুল ইসলাম সৌরভ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহরিন ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।