মোঃ জালাল উদ্দিন, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: দেশের সবচেয়ে বড় চা উৎপাদন অঞ্চল মৌলভীবাজারে একের পর এক সংকটে পড়েছে চা শিল্প। বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় দেড় লাখ একরেরও বেশি জমিতে চা-বাগান গড়ে উঠেছে। জেলার সাতটি উপজেলায় বিস্তৃত এসব বাগান দেশের চা উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে শ্রীমঙ্গলে ৪০টি, মৌলভীবাজার সদরে ৩টি, রাজনগরে ১২টি, কমলগঞ্জে ২২টি, বড়লেখায় ১৩টি, জুড়ীতে ১১টি এবং কুলাউড়ায় ২০টি চা-বাগান রয়েছে।
চলতি মৌসুমের শুরুতেই প্রচণ্ড দাবদাহে চা উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে বাগানের কারখানায় চা প্রক্রিয়াকরণ। বিদ্যুৎ চলে গেলে যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যায়, আবার বিদ্যুৎ ফিরে আসার পর উৎপাদন স্বাভাবিক করতেও সময় লাগে। এতে প্রক্রিয়াকরণের ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চায়ের গুণগত মান নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কোনো কোনো বাগানে জেনারেটর ব্যবহার করে কারখানা সচল রাখা হলেও এতে স্বাভাবিকের তুলনায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মজুরি, চিকিৎসা, জ্বালানি ও অন্যান্য খরচ বাড়ায় চা-বাগান পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
চা শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত সাত-আট বছরে নিলামে চায়ের গড় মূল্য তেমন বাড়েনি। বিপরীতে বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়। ফলে অনেক বাগান লোকসানের মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ সংকট ও উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে মৌলভীবাজারের চা শিল্প আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।