গাজীপুরের জয়দেবপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে সুটকেস ও বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের রহস্যও উদঘাটনের দাবি করেছে সংস্থাটি।
নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার (৩০)। তিনি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। জীবিকার তাগিদে গাজীপুরে এসে তিনি বাঘের বাজার এলাকার গোল্ডেন রিপিট গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, তদন্তে ডলি আক্তারের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ঘটনাও বেরিয়ে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে পরকীয়াসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার জানান, ডলি আক্তারকে হত্যার নেপথ্যে কারা জড়িত, কীভাবে তাকে হত্যা করা হয় এবং হত্যার পর কীভাবে মরদেহ খণ্ডিত করে সুটকেস ও বস্তায় ভরে ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয় এসব বিষয়ে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ঘটনা, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তদন্তে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় পিবিআই গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গাজীপুর সদর উপজেলার মেম্বারবাড়ি এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভবানীপুর ফকিরা গার্মেন্টস-সংলগ্ন আবুল কাশেমের বহুতল ভবনের পাশে কালভার্টের নিচে একটি কালো রঙের সুটকেস দেখতে পান স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুটকেসটি খুলে এক নারীর দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত মরদেহের একটি অংশ উদ্ধার করে। পরে আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহের অপর অংশও উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর থেকেই মরদেহের পরিচয় ও হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে তদন্তে নামে পুলিশ। পরে পিবিআইয়ের তদন্তে নিহত নারীর পরিচয় এবং হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের তথ্য বেরিয়ে আসে। উৎস: আরটিভি অনলাইন।