বিদ্যমান কারাগারগুলোতে বন্দির চাপ কমাতে চট্টগ্রাম বিভাগের সাত উপজেলায় ‘সাব-জেল’ নির্মাণের প্রস্তাব সম্প্রতি কারা অধিদপ্তরে জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কারা কর্তৃপক্ষ।
প্রস্তাবে চট্টগ্রাম বিভাগের নোয়াখালীর হাতিয়া, কক্সবাজারের মহেশখালী ও চকরিয়া, চট্টগ্রামের পটিয়া, সন্দ্বীপ ও বাঁশখালী এবং বান্দরবানের লামা উপজেলায় এসব ‘সাব-জেল’ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা বলেছেন চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি-প্রিজন্স) মো. ছগির মিয়া।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “ব্রিটিশ আমলে বিচারিক কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার উপজেলাগুলোতে চৌকি আদালত স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন হলেও সেসব এলাকার আদালতের বন্দিদের প্রতিনিয়ত শহরের কারাগারগুলোতে স্থানান্তর করা হয়।
“এতে করে ভোগান্তি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি এবং কর্মঘণ্টার অপচয় হচ্ছে। আবার জেলা কারাগারগুলোতেও বন্দিদের চাপ বাড়ছে। সে কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের যেসব উপজেলায় চৌকি আদালত আছে, সেখানে সাব-জেল নির্মাণের জন্য কারা অধিদপ্তরে প্রস্তাবনাটা দেওয়া হয়েছে। চৌকি আদালতগুলোতে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাই সেসব আদালতের আসামিদের শহরে না এনে সাব জেলে রাখা গেলে ভোগান্তি কমে আসবে।”
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, চট্টগ্রাম বিভাগে বর্তমানে মোট ১২টি কারাগার আছে। যার মধ্যে দুইটি কেন্দ্রীয় কারাগার।
এসব কারাগারের মধ্যে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ধারণ ক্ষমতা ২ হাজার ২৪৯ জন। এছাড়া কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১ হাজার ৭৪২ জন, রাঙামাটি জেলা কারাগারে ১৪৫, বান্দরবান জেলা কারাগারে ১১৪ জন, খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে ৮১ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে ৭৮০, কক্সবাজার কারাগারে ৮৩০, চাঁদপুর কারাগারে ৪৭৫, নোয়াখালী কারাগারে ৫০০, লহ্মীপুর কারাগারে ২৯৫, ফেনী জেলা কারাগার-১ এর বন্দি ধারণ ক্ষমতা ৩৯২ ও কারাগার-২ এর ধারণ ক্ষমতা ১৭২ জন।
তবে এসব কারাগারগুলোতে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার বেশি গড়ে ১২ থেকে ১৫ হাজারের মত বন্দি থাকে। শুধু চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারেই থাকে দৈনিক সাত হাজারের মত বন্দি।
ডিআইজি প্রিজন্স ছগির মিয়া বলেন, “এ প্রস্তবনা কারা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে; যাতে এটা সরকারের দৃষ্টিতে আনা হয়। এভাবে করে পরিকল্পিত কারাগার নির্মাণ করা গেলে ধারণক্ষমতা সমন্বয়ের সাথে জেলা শহরের কারাগারগুলোতে বন্দিদের চাপ কমে আসবে।”