রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। গত রোববার রাতে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আদালত দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে ওই দিন বিকেল পাঁচটার দিকে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা নিজেদের দায় স্বীকার করায় তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। পরে দুই আসামিকে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের শিকার রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)-এর শেষকৃত্য গত রোববার রাতে রংপুর নগরের দখিগঞ্জ মহাশ্মশানে সম্পন্ন হয়েছে।
রাত আটটার দিকে আনুষ্ঠানিকতা শেষে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চারজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত নয়টার দিকে মরদেহগুলো দখিগঞ্জ মহাশ্মশানে নেওয়া হয়। শ্মশানে চারজনের মরদেহ স্নান করিয়ে নতুন পোশাক পরানো হয়। এরপর পরপর চারটি চিতায় তাদের মরদেহ তোলা হয়। স্বজনেরা মুখাগ্নি করেন। রাত ১১টার দিকে দাহকার্য শেষ হয়।
শনিবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে রংপুর নগরের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাদের দুই সন্তান আগামী চক্রবর্তী ও আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় পরিবারের চার সদস্য বসবাস করতেন। প্রথম ও তৃতীয় তলার নির্মাণকাজ চলছিল।
পুলিশ ওই বাড়িতে ঢুকে প্রথমে একটি শোবার ঘরের খাটের ফাঁকে আয়ুশের মরদেহ দেখতে পায়। তার গলায় কাপড় পেঁচানো ছিল। এরপর তৃতীয় তলায় ওঠার সিঁড়িতে প্রীতিলতা ও তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায়। তাদের দুজনের গলায় দড়ি পেঁচানো ছিল। তৃতীয় তলার ছাদে পাওয়া যায় গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ। তার গলায় গামছা পেঁচানো ছিল।