শিরোনাম
◈ বার্সেলোনার বড় জয়, এল‌চে‌কে গোল বন‌্যায় ভাসা‌লো ◈ যে কারণে বিএনপি মিডিয়া সেল থেকে অব্যাহতি দিল তানিম সুফিয়ানীকে ◈ রংপুরে শিক্ষক ও স্ত্রী-সন্তানদের হত্যার ঘটনায় আদালতে দুই আসামির স্বীকারোক্তি ◈ ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামাতে চায় সরকার, গুরুত্ব পাচ্ছে দ্রুত চিকিৎসা ◈ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অনির্দিষ্টকাল বিনাবিচারে আটক বন্ধের আহ্বান এইচআরডব্লিউর ◈ অস্ট্রেলিয়ার কাছে বাংলাদেশের পরাজ‌য়ে লাভ হ‌লো ভারতের  ◈ দেশজু‌ড়ে খুন বাড়ছে, জনমনে উদ্বেগ! ◈ শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জোরদারে সরকারের নতুন পরিকল্পনা ◈ শিশু সবজি খেতে চায় না কেন, অভ্যাস বদলাতে যা করবেন ◈ কথা শুন‌লেন না ইনফান্তিনো, ক্যারিবিয়ান যুব টুর্নামেন্টে উপ‌স্থিত হওয়ায় আরও গভীর হলো ফিফার দ্বন্দ্ব

প্রকাশিত : ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৬ দুপুর
আপডেট : ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৯ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

দেশজু‌ড়ে খুন বাড়ছে, জনমনে উদ্বেগ!

ডেস্ক রি‌পোর্ট: সারাদেশে গত জুলাই মাসে খুনের মামলা হয়েছে ২৯৮টি। জুনে এ সংখ্যা ছিল ৩২৬; মে মাসে ৩১০। এ হিসাব অনুযায়ী, গেল তিন মাসে খুনের নথিভুক্ত মামলা ৯৩৪টি। গড়ে প্রতি মাসে খুনের মামলার সংখ্যা ৩১১। পুলিশ সদরদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে ২ হাজার ৭৬টি। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৮৭, ফেব্রুয়ারি ২৫০, মার্চে ৩১৭ ও এপ্রিলে ২৮৮টি। ---- সূত্র, সমকাল

গতকাল রোববার বাগেরহাট, ফরিদপুর, পাবনার ঈশ্বরদী, জামালপুর ও ঝিনাইদহে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আগের দিন শনিবার রাতে রংপুর নগরের কামালকাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ায় একটি বাড়ির দ্বিতীয়তলা থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় স্বজনরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, টার্গেট কিলিং, সংঘবদ্ধ অপরাধী গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক কোন্দল, এলাকাভিত্তিক চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তৎপরতা, মাদক-অপরাধকেন্দ্রিক লড়াই, কিশোর গ্যাং, গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব, জমির বিবাদ, নারী-শিশু নিপীড়নের পর হত্যা এবং পারিবারিক-সামাজিক কলহে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে।

 সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুনের পেছনে একক কোনো কারণকে দায়ী করা যাচ্ছে না। কিছু এলাকায় খুনের ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। এতে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তারের বিষয়টি সামনে আসছে। সমকালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাত মাসে সারাদেশে ১২৩টি গুলির ঘটনা ঘটেছে। নিহত হয়েছেন ৫৯ জন।

এখন পর্যন্ত পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার হয়নি এক হাজার ৩১১টি। এর মধ্যে চায়নিজ রাইফেল ১০৯টি ও ৩০টি এসএমজি রয়েছে। গুলি উদ্ধার হয়নি দুই লাখ ৫৭ হাজার ১২৫টি। এ ছাড়া অনেক অপরাধী চক্রের হাতে আছে অবৈধ আধুনিক অস্ত্র।

সমাজে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন, খুনের মামলার পরিসংখ্যান দেখে সাধারণত তার একটি চিত্র পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত উন্নতি এখনও দেখা যাচ্ছে না। সাত মাসে গড়ে ২৯৬টি খুনের মামলা নথিভুক্ত হয়। এ সময় দুই হাজারের বেশি মামলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য সতর্কসংকেত বলছেন অনেকে।

পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, খুনের পরিসংখ্যান মাসে প্রায় ৩০০। অনেক সময় চাইলে খুন ঠেকানো কঠিন। কারণ, এটা আনপ্রেডিক্টেবল। ব্যক্তিগত শত্রুতা ও ক্রোধ থেকেও হত্যার ঘটনা ঘটছে। আবার খুন কখনও বাড়ে, কখনও কমে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এখনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রত্যাশামতো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। সংযুক্তি, বদলি, চাকরি হারানো, মামলায় আসামি, সামাজিক মাধ্যমে ট্যাগিং করার মতো আতঙ্ক তাদের মধ্যে রয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে মাঠের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর।

খুনোখুনির পেছনের আরেকটি কারণ রাজনৈতিক কোন্দল। অনেক এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুনের ঘটনা ঘটে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, রাজনৈতিক বিরোধে জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছোট-বড় সংঘাতের ঘটনা ৪০০টি। এতে প্রাণ গেছে ৭৭ জনের। তাদের মধ্যে দুর্বৃত্তদের হামলা ও গুলিতে নিহত হয়েছেন ৪০ জন। 

১৭ আগস্ট সচিবালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিগত ছয় মাস বা ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়টি দেশের জনগণই মূল্যায়ন করবে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতি আরও সুসংহত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সব মহানগর এলাকার মধ্যে জুলাই মাসে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ৩১টি খুনের মামলা হয়েছে। জুন মাসে ঢাকায় খুনের ঘটনা ২৩টি, মে মাসে ছিল ১৬টি। তিন মাসে ঢাকায় খুনের ঘটনা ৭০টি। তিন মাসের হিসাবে ঢাকায় খুনের পরিসংখ্যান ঊর্ধ্বমুখী।

এছাড়া জুলাই মাসে চট্টগ্রাম মহানগরে খুনের মামলা ৪টি, খুলনায় ৩, রাজশাহীতে ১, সিলেটে ৫ ও গাজীপুরে ৭টি। জুলাই মাসে বরিশাল ও রংপুর মহানগরে খুনের ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া জুলাই মাসে ঢাকা রেঞ্জে সবচেয়ে বেশি ৬৬টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। 

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চট্টগ্রাম রেঞ্জে ৫৪টি, খুলনায় ২৯, ময়মনসিংহে ২৭, রাজশাহীতে ২৪, রংপুরে ১৮, সিলেটে ১৫ ও বরিশাল রেঞ্জে ১৪টি। জুন মাসে ঢাকা রেঞ্জে খুন ৭৪, চট্টগ্রামে ৬৭, রাজশাহীতে ৩১, খুলনায় ২৮, ময়মনসিংহ ও সিলেটে ২২টি করে, বরিশাল ১৫ ও রেলওয়ে রেঞ্জে ২টি। মে মাসে ঢাকা রেঞ্জে খুন ৭২, চট্টগ্রামে ৭১, খুলনা ও রাজশাহীতে ২৯টি, রংপুরে ২১, বরিশালে ২০, সিলেটে ১৪ ও রেলওয়ে রেঞ্জে ১টি। গত তিন মাসে শুধু খুলনা রেঞ্জে মোট খুন ৮৫টি। 

এ ছাড়া খুলনা মহানগরে তিন মাসে খুনের ঘটনা ৯টি। এ ছাড়া চট্টগ্রাম রেঞ্জে তিন মাসে খুনের মামলা ১৯২টি। চট্টগ্রাম মহানগরে তিন মাসে খুনের মামলা ১৪টি। ঢাকা রেঞ্জে তিন মাসে খুনের মামলা ২১২টি।

পুলিশ সদরদপ্তরের পরিসংখান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে খুনের ঘটনায় মামলা ছিল ৩৬২টি। এর মধ্যে আগের খুনের ঘটনায় ৯০টি মামলা রয়েছে। এ হিসাবে জুলাই মাসে প্রকৃত খুনের ঘটনা ২৭২টি। জুন মাসে খুনের মোট মামলা ৩৪৪টি। আগের অপরাধের মামলা ৯৫টি। ওই মাসে খুনের ঘটনার প্রকৃত মামলা ২৪৯টি। মে মাসে খুনের মোট মামলা ৩৪১টি। আগের মামলা ৮০টি। এ হিসাব অনুযায়ী, সেই মাসে প্রকৃত খুনের মামলা ২৬১টি। আগের বছরের মে থেকে জুন পর্যন্ত প্রকৃত খুনের মামলা ৭৮২টি। গড়ে সেই তিন মাসে খুনের ঘটনা ২৬০টি।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে খুনের মামলা ৩৩৪, জুনে ২৬৮ ও মে মাসে ২৫৯। তিন মাসে মোট খুনের ঘটনা ৮৬১টি। এ হিসাবে ওই তিন মাসে গড়ে খুনের ঘটনা ২৮৭টি। এ ছাড়া ওই বছরের জানুয়ারিতে খুনের মামলা ২৩১, ফেব্রুয়ারি ২৪০, মার্চে ২৩৯, এপ্রিল ২৯৬, মে মামে ২৫৯, জুনে ২৬৮, জুলাই ৩৩৪, আগস্ট ৬২৬, সেপ্টেম্বর ২৮৩, অক্টোবর ২৪৯, নভেম্বর ২১১ ও ডিসেম্বরে ২০৪টি। ওই বছরের আগস্ট মাসের ৬২৬টি মামলার মধ্যে ১৫৮টি আগের অপরাধের (২০০৯-২০২৪ সাল)।

পুলিশ সদরদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৩ সালে জানুয়ারিতে খুনের ঘটনা ২১৪টি, ফেব্রুয়ারি ২২২, মার্চে ২৬৮, এপ্রিলে ২৯৬, মে মাসে ২৪৬, জুনে ২৭২, জুলাইয়ে ২৯৬, আগস্টে ২৫৩, সেপ্টেম্বরে ২৩৮, অক্টোবরে ২৫৮, নভেম্বরে ২২৭ ও ডিসেম্বরে ২২৩টি। ওই বছর মোট খুনের মামলা তিন হাজার ২৩টি। গড়ে প্রতি মাসে খুনের মামলা ২৫১টি। ২০২৩ সালের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তিন মাসে ৮১৪টি। গড়ে সেই তিন মাসে খুন ২৭১টি।

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ে সদরদপ্তরে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেখানে বৈঠকে খুন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত ৬ আগস্ট রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন বাগানবাড়ী কালভার্ট এলাকার একটি গরুর খামার-সংলগ্ন সেতুর নিচে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর খণ্ডিত মাথা ও পলিথিনে মোড়ানো দুই হাত পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করে। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তাঁর নাম ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানী (১৯)। পরে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে খণ্ডিত মাথার ছবি ও দুই হাতে থাকা ট্যাটু দেখে তারা মরদেহটি শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত অপরাধী কারাগার থেকে জামিনে বের হয়েছেন। কয়েকজন বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। তাদের কেউ দেশে অবস্থান করছেন, আবার কেউ বিদেশে চলে গেছেন। এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে কেউ কেউ তৎপর। অনেকে আবার পুরোনো শত্রুদের ‘শায়েস্তা করার মিশন’ নিয়েছেন। 

গত ২৮ এপ্রিল নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের ভগ্নিপতি খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাঁর স্বজনরা এ হত্যার জন্য আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী হেলালকে দায়ী করেন। তবে হেলাল পাল্টা অভিযোগ করেন, এর পেছনে ইমনের সহযোগীরাই জড়িত। 

গত ১০ নভেম্বর ঢাকার আদালতপাড়ার কাছে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

২০ আগস্ট খুলনার বটিয়াঘাটায় নদী থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই দিন রাতে দিঘলিয়া উপজেলায় বিদ্যালয় ছুটির প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর স্কুলের বাথরুম থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় এক ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ১৯ আগস্ট শহরের লবণচরায় জোড়া খুন হয়েছে। আশিবিঘা এলাকায় মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে গুলিতে দুই তরুণ নিহত হন। ১৮ আগস্ট রায়েরমহল এলাকায় শিশু অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে গণপিটুনিতে রাজু (২৬) নামে এক যুবক নিহত হন। ১৫ আগস্ট জয় ঢালী (২৭) নামে এক যুবককে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ১১ আগস্ট ফখরুল শেখ (৩২) নামে এক যুবককে ইটভাটায় গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, খুলনা, চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে খুনের ঘটনা বেশি ঘটছে। সেখানে ভাড়াটে খুনি, চরমপন্থি ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক জলদস্যুরা অনেক ক্ষেত্রে এসবের সঙ্গে জড়িত। আগে তাদের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ভয় ছিল। এলাকায় আসত না। এখন অপরাধীদের প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করায় বিশ্বাসী পুলিশ। আবার কিছু জায়গায় রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে খুনের ঘটনা ঘটছে। 

তবে যেসব ঘটনা ঘটছে তার অধিকাংশের রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খোন্দকার রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, অপরাধ পর্যালোচনা সভায় খুনের মতো অপরাধ কীভাবে কমিয়ে আনা যায়– এ ব্যাপারে সব সময় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

  • সর্বশেষ