শিরোনাম
◈ সৌদি আরবের সংকটে শাহজালালে সরাসরি ও ট্রানজিটের ৮২ ফ্লাইটযাত্রায় বিঘ্ন, ভোগান্তিতে ১৩ হাজারের বেশি যাত্রী ◈ ২ দিন বন্ধের ঘোষণায় সংকট, বেশি দামেও মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার ◈ ৩৫ বছরের পর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ থাকছে না, জানালেন আইনমন্ত্রী ◈ ডিসি-এসপির সহায়তায় ৩০ ঘণ্টা পর মুক্ত হলেন চুয়েট উপাচার্য, ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান (ভিডিও) ◈ দুর্দান্ত লড়াই করে বাংলা‌দে‌শের বিরু‌দ্ধে ম্যাচ ড্র করলো আফগানিস্তান ◈ ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে কামড়, বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হলিউড অভিনেত্রী ◈ বাংলাদেশে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘ইতেহাদুলউম্মাহ’, বিদেশি যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা (ভিডিও) ◈ নিউইয়র্কে অপ্রীতিকর ঘটনার পর এখন কেমন আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যা জানালেন লামিয়া মোর্শেদ ◈ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ: প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয়-নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা ◈ সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দলকে আবারও আলোচনায় আসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৬ রাত
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

২০ বছর পর কুমিল্লার আলোচিত বিস্ফোরক মামলার রায়, জেএমবির দুই সদস্যের ২০ বছর করে কারাদণ্ড

শাহাজাদা এমরান, স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা : কুমিল্লায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা আলোচিত একটি মামলার প্রায় ২০ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দুই আসামিকে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক নারী আসামিকে ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৬) আদালতের বিচারক খাইরুন নেছা এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—নওগাঁর মো. মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মিন্টু, ওরফে সামাদ, ওরফে রাজীব এবং গাজীপুরের শ্রীপুর থানার চকপাড়া এলাকার মোহাম্মদ দুরুল হুদা ওরফে হাসান। অপর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দুরুল হুদার স্ত্রী খালেদা আক্তার রানী।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৪/৬ ধারায় মামলা নম্বর-২১ দায়ের করা হয়। মামলার জিআর নম্বর-১০৬/০৬ এবং এসটি মামলা নম্বর-১৩৭/০৬, মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৬ সালের মার্চে কুমিল্লার বিষ্ণুপুর এলাকায় র‍্যাব-৭ অভিযান চালায়। একটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন বিস্ফোরক ও রাসায়নিক পদার্থ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধারের কথা মামলার এজাহার ও জব্দ তালিকায় উল্লেখ করা হয়।

Advertisement

উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে ছিল সোডিয়াম সালফেট, লিড নাইট্রেট, সোডিয়াম নাইট্রেট, পটাসিয়াম ক্লোরাইড, সালফিউরিক অ্যাসিড, সালফার পাউডার, পটাসিয়াম ক্লোরেট ও অ্যালুমিনিয়াম পাউডার। এছাড়া ইলেকট্রিক ডেটোনেটর, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক তার, সার্কিট ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি জব্দের কথাও মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। মামলার নথিতে আরও বলা হয়, তৎকালীন র‍্যাবের হেফাজতে থাকা শায়খ আবদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিষ্ণুপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।

মামলার বিচারিক কার্যক্রমে বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দি, আসামিদের বক্তব্য, জব্দ তালিকা ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

রায়ে মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ দুরুল হুদাকে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুরুল হুদার স্ত্রী খালেদা আক্তার রানীকে দেওয়া হয় ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড।

রায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে খালেদা আক্তার রানীর তিন সন্তান থাকা, তার স্বামী কারাগারে থাকা এবং তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকার বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে মামলার রায়সংক্রান্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানামূলে তিন আসামিকে পুলিশ পাহারায় প্রিজন ভ্যানে করে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০০৬ সালের বিষ্ণুপুরের অভিযান ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলাটির নিষ্পত্তি হলো বুধবার।

  • সর্বশেষ