নোয়াখালীর মাইজদী বাজার এলাকায় ২০১৬ সালে সালিসি বৈঠককে কেন্দ্র করে সংঘটিত ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনকে যাবজ্জীবন ও ২ জনকে খালাসের রায় দিয়েছেন আদালত।
রোববার বেলা ১২টার দিকে নোয়াখালী জেলা বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ মার্চ দুপুরবেলা নোয়াখালী জেলা শহরের মাইজদী বাজার এলাকার নোয়াখালী সরকারি পুরাতন কলেজ-সংলগ্ন পুকুরে স্থানীয় কিশোর রাজীব (২৩) একটি কুকুরকে গোসল করাতে যায়। এ নিয়ে স্থানীয় অনন্তপুর গ্রামের মো. সৌরভের সঙ্গে রাজীবের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় সালিসে বসার কথা ছিল। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে রাজীব ও তার দুই বন্ধু ওয়াসিম (২২) ও ইয়াছিন (২৩) নোয়াখালী সরকারি কলেজের পুরাতন ক্যাম্পাস এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় যুবক ওমর নাছির সাজু, ওমর শরিফ সুলতান, সৌরভ, কুদ্দুস উল্যাহ, ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পি ও হারুনুর রশিদ বাবুল এবং তাদের সহযোগীরা তাদের ওপর অতর্কিত গুলি চালায়।
এতে ঘটনাস্থলেই রাজীব নিহত হন এবং বাকি দুই বন্ধু কয়েক দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত রাজীবের মা কামরুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে আজ রোববার বেলা ১২টার দিকে নোয়াখালী জেলা বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শওকত আলী ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২ জনকে খালাস দেন। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জেলা শহরের মাইজদী বাজার এলাকার কুদ্দুস উল্যাহর ছেলে ওমর নাছির সাজু ও ওমর শরিফ সুলতান এবং একই এলাকার ফারুকের ছেলে সৌরভ। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন একই এলাকার মৃত মফিজ উল্যাহর ছেলে কুদ্দুস উল্যাহ, নুরুল ইসলামের ছেলে ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পি ও মোহাম্মদ উল্যাহর ছেলে হারুনুর রশিদ বাবুল। ৬ আসামিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট রাশেদ জানান, আদালত যে রায় দিয়েছেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এক মাত্র আসামিকে ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পিকে আটক করা হলেও বাকি পাঁচ আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত রাজীবের মা কামরুন্নাহার। তিনি বলেন, এ রায়ে আলহামদুলিল্লাহ আমি খুব খুশি।
নোয়াখালী জেলা বিশেষ জজ আদালতের পিপি তাফাক্তার হোসেন জানান, নোয়াখালী পুরাতন কলেজের পাশে সুপরিকল্পিতভাবে রাজীব, ওয়াসিম ও ইয়াছিনকে গুলি করে হত্যার অপরাধে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ১৯ জন সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়। বিজ্ঞ আদালত অপরাধীদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ৩ জন আসামির ফাঁসির আদেশ, ৩ জনের কারাদণ্ড এবং ২ জনকে বেকসুর খালাস দেন। এই মামলার রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তবে বিবাদীপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দিন এ রায় নিয়ে গণমাধ্যমের কোনো কথা বলবেন না বলে চলে যান।