শিরোনাম
◈ দেশের আট বিভাগে হচ্ছে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, বাড়বে সাইবার অপরাধ দমনের সক্ষমতা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ ভারতের আন্দোলনে পথ দেখিয়েছে বাংলাদেশের তরুণরা: নেহা বোরা (ভিডিও) ◈ যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে বড় পরিবর্তন, মেয়াদ শেষ হলেই বন্ধ কাজের সুযোগ ◈ আগামী ৯ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন ◈ রাজধানীর ধানমন্ডিতে বয়স্ককে মারধরের ভিডিও ভাইরাল, নেপথ্যে যে ঘটনা জানাগেল ◈ লাল কার্ড পে‌লেন ওলিস, ৬ গোলের রোমাঞ্চে বায়ার্ন মিউনিখ‌কে রুখে দিলো ভাইকিং ◈ রাশিয়া, কানাডা ও সৌদি আরব থেকে ৯৬৯ কোটি টাকার সার কিনবে সরকার ◈ টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, ২১ ইউনিটের ৪ ঘন্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে ◈ ওমান প্রবাসীদের জন্য জরুরি খবর! ◈ বাংলাদেশে ই-বর্জ্য থেকে বছরে ৫০ কোটি ডলারের সম্পদ উদ্ধারের সুযোগ, ঝুঁকিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য

প্রকাশিত : ২৮ জুলাই, ২০২৬, ০৮:৪০ রাত
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

খালের মুখে কাঠের বেষ্টনী, টহলে ড্রোন : সুন্দরবনের গভীরে অপরাধীদের অনুপ্রবেশ রোধে বন বিভাগের বিশেষ উদ্যোগ

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেরবিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের গভীরে অপরাধীদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে জালের মতো ছড়িয়ে থাকা শাখা-প্রশাখা খালের ৯টি প্রধান সংযোগপথে কাঠের বেষ্টনী নির্মাণ করে সিলগালা করেছে বন বিভাগ। পাশাপাশি অল্প সময়ে বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়মিত টহলে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন প্রযুক্তি। বন বিভাগের দাবি, এই দুই উদ্যোগের ফলে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার, মাছের পোনা নিধন এবং হরিণসহ বন্যপ্রাণী শিকারের উদ্দেশ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরের মতো চলতি বছরও ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে তিন মাসের মাছ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকাল চলছে। এ সময়ে অসাধু জেলে ও শিকারিরা যাতে গভীর বনে প্রবেশ করে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, মাছের পোনা নিধন কিংবা বন্যপ্রাণী শিকার করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

শরণখোলা রেঞ্জে ভোলা খাল এবং দাসের বাড়ানি (ডাকাতের খাল) খালের মুখে কাঠের বেষ্টনী স্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে চাঁদপাই রেঞ্জে মরা ভদ্রার ভাড়ানি, জিয়ার ভাড়ানি, নওশের আলী ভাড়ানি, সূর্যমুখী খাল, ঢাংমারী স্টেশনের হুলার ভাড়ানি, করমজল স্টেশনের চারা খালি এবং ৮ নম্বর খালেকের ভাড়ানিসহ মোট সাতটি খালের মুখ বন্ধ করা হয়েছে।

শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (সহকারী বন সংরক্ষক) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “অসাধু চক্রের যাতায়াত বন্ধ করতে এই রেঞ্জের দুটি গুরুত্বপূর্ণ খালের মুখে কাঠের বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। এতে মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত হবে এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে টহলের সময় ড্রোন ব্যবহারের ফলে অল্প সময়ে বৃহৎ এলাকা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। এর সুফল ইতোমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।”

Advertisement

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “প্রধান কয়েকটি খালের মুখ কাঠের বেষ্টনী দিয়ে বন্ধ করার পর থেকে অভয়ারণ্য এলাকায় অপরাধের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জলজ প্রাণী, মাছের প্রজনন ক্ষেত্র এবং সুন্দরবনের সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন রক্ষায় শুধু বন বিভাগের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। বন ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় স্থানীয় জনগণ, জেলে সম্প্রদায় এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, খালের মুখে বেষ্টনী এবং ড্রোন নজরদারির সমন্বিত ব্যবস্থার ফলে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সুন্দরবনের জলজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণী আরও নিরাপদ থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক ফল মিলবে।

  • সর্বশেষ