এম.ইউছুপ রেজা, চট্টগ্রাম : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন এগারো দলীয় জোটের চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ। তাকে চট্টগ্রাম–৮ আসন (চান্দগাঁও, বোয়ালখালী ও পাঁচলাইশ আংশিক) জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ স্থানীয় জামায়াত। তাদের দাবী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা.আবু নাসের দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে চষে বেড়াচ্ছেন এবং মাঠ গুছিয়েছেন।
হঠাৎ করে নির্বাচনের আগে আগে এসেই এগারো দলীয় জোটের পক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে প্রার্থী ঘোষণা করায় বেজায় নাখোশ জামায়াতে ইসলামী তৃণমুল কর্মী-সমর্থকেরা। তৃণমুল কর্মীদের দাবী চট্টগ্রাম আট আসনে জোটগতভাবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নির্বাচন না করে জোটের প্রার্থী এনসিপির মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ নির্বাচন করলে এখানে ধানের শীর্ষের প্রার্থী বিজয়ী হওয়া অনেকটা খোলা মাঠে গোল দেওয়ার মতো হবে।
এদিকে এগারো দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির শাপলা কলি’র মো. জোবাইরুল হাসান আরিফের পক্ষে এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়া সহ কেন্দ্রীয় নেতারা এসে বোয়ালখালীতে নির্বাচনী জনসভা করে গেছেন। যদি সেখানে তুলনামূলক সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কম ছিলো।
অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দীর্ঘদিন মাঠথেকে দূরে থাকলেও সম্প্রতি সরাসরি নিজে মাঠে নেমে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনী ইস্তেহারও ঘোষণা করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরাও জোটের প্রার্থী শাপলা কলির মার্কার এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মো. জোবাইরুল হাসান আরিফের পক্ষে কাজ না করে সরাসরি জামায়াতে ইসলামী দাড়িপাল্লা প্রতীকের ডা.আবু নাসের এর পক্ষে মাঠে নেমেছেন এবং কাজ করছেন। সম্প্রতি দাড়িপাল্লার পক্ষে চট্টগ্রাম আট আসনে চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় মহিলা জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মিদের বিশাল মিছিল নজর কেড়েছে সবার।
তবে, বিজ্ঞজনেদের অভিমত জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির দ্বন্দ্বে নির্বাচনে সুফল ভোগ করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। কারণ, হিসেবে জানা যায়, ধানের শীষের এরশাদ উল্লাহকে জেতাতে বিএনপির নেতাকর্মিরা এবং বিবাদমান গ্রুপগুলোও তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছেন এবং কাজ করছেন। এতে করে চট্টগ্রাম আট আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ জেতা সময়ের ব্যাপার বলেও উল্লেখ করেছেন একাধিক ভোটার।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপির নির্বাচনী জোট হলেও জামায়াত–এনসিপি কেউ আসনটি একে অপরকে ছেড়ে দিতে নারাজ। ফলে দেশের অন্যান্য সংসদীয় আসনগুলো নিয়ে প্রায় সমঝোতায় পৌঁছুলেও তা আটকে আছে চট্টগ্রাম–৮ এ। প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণার শেষদিনে কেউ কাকে সমর্থন না করায় আটকে গেছে সমঝোতা। ফলে, উভয়দলের প্রার্থী রয়ে গেছেন মাঠে।
এদিকে জামায়াত ইসলামী শুরু থেকেই বলে আসছে চট্টগ্রাম–৮ আসনে নিজেদের অবস্থান শক্ত রয়েছে। ফলে দলটির তৃণমূলের চাওয়া ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত থাকুক জামায়াতের প্রার্থী। তাছাড়া চট্টগ্রাম শহরের চারটি আসনের মধ্যে একটি (আংশিক) চট্টগ্রাম–৮। চট্টগ্রাম–৯ (কোতোয়ালী–বাকলিয়া) আসনে জামায়াতের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় শহরে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চট্টগ্রাম–৮ আসনকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।
রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম–৮ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হচ্ছেন ডা. মো. আবু নাছের ও জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপি’র প্রার্থী হচ্ছেন মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ। এছাড়া জামায়তের সঙ্গে নির্বাচনী সমাঝোতায় গড়ে উঠা ১১ দলীয় জোটভুক্ত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নুরুল আলম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহও প্রার্থী আছেন।
এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী হচ্ছেন আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ। তিনি মহানগর বিএনপির আহ্বায়কও। চট্টগ্রাম–৮ আসনের বোয়ালখালী উপজেলায় দীর্ঘদিন বিএনপির তিনটি বলয় কাজ করলেও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধানের শীষের প্রার্থীকে জেতাতে একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন বিবদমান গ্রুপগুলো। অথচ, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে কয়দিন আগে বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ান, মোস্তাক আহমদ খান এবং এরশাদ উল্লাহ পৃথক পৃথক গ্রুপ নিয়ে বোয়ালখালীতে শোডাউন করেছেন।
আবু সুফিয়ানকে চট্টগ্রাম-9 আসনে মনোনয়ন দেওয়ায় এবং মোস্তাক আহমদ খানও নির্বাচন থেকে সরে দাড়ায় এককভাবে মাঠে রয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ। তারপক্ষে বিএনপির নেতাকর্মিরা দিনরাত নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ, উঠান বৈঠক সহ নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন ঐক্যবদ্ধভাবে। ফলে বিএনপির ধানের শীষের এ প্রার্থীর বিজয় ঠেকানো কঠিন হবে বলে জানান রাজনৈতিক বিজ্ঞজনেরা।
এছাড়াও সুন্নী বৃহত্তর জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন মোমবাতি প্রতীকের মাওলানা হাসান আজহারী। তিনিও তার কর্মি সমর্থকদের নিয়ে মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন প্রতিনিয়ত।