আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওয়াশরুম গোপন ক্যামেরা লাগানোর অভিযোগে ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবির ইমনকে গনপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিক্ষুব্ধ ইন্টার্ন চিকিৎসকগণ।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়। এর আগে, প্রায় আধাঘণ্টা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, রবিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের ৯০৭ নম্বর ওয়াশরুমে (নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য বরাদ্দ) এক নারী চিকিৎসক স্পাই কলম ক্যামেরা দেখতে পান। তিনি ক্যামেরা নিয়ে বের হলে রায়হান সেটি নিতে ধস্তাধস্তি করেন। এ সময় ওই নারী চিকিৎসককে একটি কক্ষে আটকে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। একপর্যায়ে কলম ক্যামেরাটি ভেঙে ফেলেন।
এ ঘটনায় রবিবার রাতেই ওই নারী চিকিৎসক যৌন হয়রানির অভিযোগে হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেন। সোমবার সকালে সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করেন হাসপাতালের পরিচালক। দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হলে রায়হানকে অবরুদ্ধে করে রাখেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।পরে পুলিশের সোপর্দের আগে তাকে গণপিটুনি দেওয়া হয়।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, ‘‘এ ঘটনায় তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে রায়হানকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’’
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, ‘‘অভিযুক্ত ইমনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।’’