হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ আহাদ পদত্যাগ করেছেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ফেসবুক পোস্টে সৈয়দ আহাদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, তিনি স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে এবং সুস্থ মস্তিষ্কে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সালথা উপজেলা শাখার সহ-সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকবে না বলেও ঘোষণা দেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, “আসসালামুয়ালাইকুম। আমি সৈয়দ আহাদ, পিতা—সৈয়দ সরোয়ার হোসেন, থানা—সালথা, জেলা—ফরিদপুর। এই মর্মে ঘোষণা করিতেছি যে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সালথা উপজেলা শাখার সহ-সভাপতির পদ থেকে আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করিলাম। এই মুহূর্ত থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বা তার কোনো সংগঠনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
সৈয়দ আহাদের এই ঘোষণার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও পদত্যাগের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেননি, তবে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের জল্পনা চলছে।
স্থানীয় ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দ আহাদ দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তার পদত্যাগের বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগ বা জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে পদত্যাগের ঘোষণা নতুন কিছু নয়। তবে একটি সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে থাকা নেতার এ ধরনের ঘোষণাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে স্থানীয় রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে সৈয়দ আহাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত তার কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় বা জেলা পর্যায়ের নেতারা কী সিদ্ধান্ত নেন, সে দিকেও নজর রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ছাত্র ও যুব রাজনীতিতে সাংগঠনিক পরিবর্তন ও পদত্যাগের ঘটনা আলোচনায় রয়েছে। সৈয়দ আহাদের পদত্যাগ সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।