হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর-৪ আসন (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন)–এ জাতীয় পার্টি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি রায়হান জামিলের নির্বাচনী প্রচারণাকালে হুমকি ও গালাগালির ঘটনার প্রতিবাদে ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁর সমর্থকরা। কাফনের কাপড় পরিধান করে শান্তিপূর্ণ প্রচারণার মাধ্যমে তারা ভয়ভীতি ও বাধার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি তোলেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে চরভদ্রাসন উপজেলার ম্যাজিস্ট্রেট বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মুফতি রায়হান জামিলের নেতৃত্বে তাঁর শতাধিক সমর্থক কাফনের কাপড় পরে ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। কর্মসূচিটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এ সময় মুফতি রায়হান জামিল বলেন, “নির্বাচনী প্রচারণায় হুমকি, গালাগালি ও বাধা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। এ ধরনের আচরণ জনগণের ভোটাধিকারকে ক্ষুণ্ন করে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের বক্তব্য জনগণের কাছে পৌঁছাতে চাই। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা এখন সবচেয়ে জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের থামানো যাবে না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব।”
সমর্থকরা জানান, নির্বাচনী পরিবেশে বারবার বাধা ও অশালীন আচরণের মাধ্যমে একটি মহল ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করতে চায়। এর প্রতিবাদেই তারা প্রতীকীভাবে কাফনের কাপড় পরে কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মুফতি রায়হান জামিলের নির্বাচনী গেট ও ব্যানার ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এর প্রতিবাদে তিনি ঝাড়ু হাতে মিছিলসহ একাধিক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এব্যাপারে জানতে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে, চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নি কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন বলেন, ওই প্রার্থী এখন পর্যন্ত হুমকি-ধামকি কিংবা প্রচারণায় বাধা প্রদানের কোনো অভিযোগ লিখিত কিংবা মৌখিকভাবে আমাদের দেননি। তবে, বিষয়টি খোঁজ-খবর নিয়ে দেখা হবে।
তিনি বলেন, আমাদের এ উপজেলায় দু'জন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে আছেন সবসময়। অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, মুফতি রায়হান জামিল দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর-৪ এলাকার মানুষের কাছে সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন সময় আলোচনায় আসেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ১০ টাকায় ইলিশ মাছ, ৩০ নভেম্বর ১ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস এবং ১১ জুলাই ২ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ করে তিনি সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়ান। এছাড়া গভীর রাতে নিজে মাথায় করে দরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
এ ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচির মাধ্যমে মুফতি রায়হান জামিল ও তাঁর সমর্থকরা নির্বাচনী সহিংসতা ও ভয়ভীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।