শিরোনাম
◈ জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের মামলা প্রত্যাহার ও দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি ◈ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জন করবে কিনা, পাকিস্তান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে আগামী সপ্তাহে ◈ চার মাসে ডাকসুর ২২৫ উদ্যোগ, ২ বছরে কাটবে ঢাবির আবাসন সংকট: সাদিক কায়েম ◈ ‘হাজার বার জয় বাংলা স্লোগান দেব’ তারেক রহমানের মঞ্চে ছাত্রদল নেতা (ভিডিও) ◈ পোস্টাল ব্যালট: চার লক্ষাধিক প্রবাসীর ভোটদান সম্পন্ন ◈ শুধু ভোট দিয়ে চলে আসলে হবে না, হিসাব কড়ায়-গন্ডায় বুঝে নিতে হবে: তারেক রহমান ◈ অবশেষে হাইকোর্টে জামিন পেলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম ◈ সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ পেতে আবেদন করা যাবে অনলাইনে, যেভাবে করবেন ◈ তথ্য গোপনে ছাড় নেই, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বে ভোটের পরেও ব্যবস্থা: ইসি মাছউদ ◈ ডাকসু থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন সর্বমিত্র চাকমা

প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:৪৪ দুপুর
আপডেট : ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বেনাপোল বন্দরে এক দিনে ১৫১১ যাত্রী পারাপার, ৩৩৬ ট্রাক বাণিজ্যে রাজস্ব আদায় ১১ কোটির বেশি

আজিজুল হক, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: বেনাপোল বন্দর দিয়ে গতকাল ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করেছে ১৫১১ জন পাসপোর্টধারী। এসময় ভারতের সাথে ৩৩৬ ট্রাক পণ্যের আমদানি,রফতানি বাণিজ্য হয়েছে। এতে ভ্রমণ খাতে সরকারের প্রায় ১১ লাখ টাকা আর বাণিজ্য খাতে প্রায় ১১ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বেনাপোল রুটে বাণিজ্য ও পাসপোর্টধারী যাতায়াতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় মানিচেঞ্জার ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, রোববার বাংলাদেশি ১০০ টাকার বিনিময়ে মিলেছে ৭৬ ভারতীয় রুপি এবং ভারতীয় ১০০ রুপিতে বাংলাদেশি টাকা পাওয়া গেছে ১৩১ টাকা। প্রতি ইউএস ডলারের ক্রয় মূল্য ছিল ১২৫ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ১২৬ টাকা।

বন্দরের তথ্য মতে, বেনাপোল ও পেট্রাপোল মধ্যে সকাল ৯ টা থেকে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য শুরু হয়। এবং বাণিজ্য শেষ হয় রাত ১০ টায়।

রোববার দিনভর ভারত থেকে আমদানি হয় ৩১৭ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য এবং ৩৬ টি ট্রাক চ্যাচিজ। অনান্য আমদানি পণ্যের তালিকায় ছিল শিল্প কলকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিকেল, শিশু খাদ্য, মেশেনারিজ দ্রব্য, অক্সিজেন, বিভিন্ন প্রকারে ফল, চাল, পেঁয়াজ, মাছসহ বিভিন্ন পণ্য। একই দিনে বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানি হয়েছে ১৯ ট্রাক পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা টিসু, মেলামাইন, কেমিকেল মাছ ও ওয়ালটন পণ্য সামগ্রী।

ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় কারনে বেনাপোল স্থলপথে পাট,পাটজাত দ্রব,তৈরী পোশাক,কাটের তৈরী আসবাব পত্রসহ কয়েকটি পণ্য রফতানি হয়না।দেশীয় শিল্প সুরক্ষার কারন দেখিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিষেধাজ্ঞায় সুতাসহ কয়েকটি পণ্য আমদানি সরকার পরিবর্তনের পর থেকে বন্ধ আছে।

এদিকে রোববার বেনাপোল বন্দর থেকে ঢাকা পর্যন্ত পচনশীল জাতীয় আমদানি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ট্রাক প্রতি ভাড়া ছিলো ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা, চট্রগ্রাম ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা,খুলনা ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা ও বরিশাল ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। তবে পচনশীল জাতীয় কাচামাল ছাড়া অনান্য পণ্য পরিবহনে বেনাপোল বন্দর থেকে ঢাকা পর্যন্ত ট্রাক প্রতি ভাড়া ছিলো ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা, চট্রগ্রাম ২২ থেকে ২৪ হাজার টাকা,খুলনা ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা ও বরিশাল ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা বলে ট্রান্সপোর্ট সুত্রে জানা গেছে। 

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ট্রাক পণ্যের বাণিজ্য হতো। তবে গতবছরের ৫ আগস্টের পর দুই দেশের একের পর এক বাণিজ্যের উপর নিষেধাজ্ঞায় আমদানি, রফতানি ও পাসপোর্টধারী যাতায়াত ৭০ শতাংশ কমে এসেছে।

এক বছর ধরে বন্ধ দুই দেশের বাণিজ্য বৈঠক। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ীরাই বড় ধরনের বিড়ম্বনা ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এতে গত বছরে তার আগের বছরের চেয়ে দেড় লাখ টনের বেশি পণ্য আমদানি কমেছে। এতে চলতি অর্থবছরের গেল ৬ মাসে লক্ষমাত্রার চেয়ে এক হাজার ১২ কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে। বাণিজ্যে পরিবেশ ফেরাতে সরকারের পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ইমিগ্রেশন তথ্য জানান, প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৬ টা থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে শুরু হয় পাসপোর্টধারী যাতায়াত। একজন পাসপোর্টধারীকে ভারত ভ্রমন করতে ১২ বছরের উধ্বে পাসপোর্টধারীদের ভ্রমন কর ১০০০ টাকা এবং বন্দর কর ৬১ টাকা বাংলাদেশ সরকারকে দিতে হয়।

৫ বছর থেকে ১২ বছরের নিচে যাত্রীদের ৫৬১টাকা এবং ৫ বছরের নিচে শিশুদের ক্ষেত্রে কেবল মাত্র বন্দর কর ৬১ টাকা দিতে হয়। ক্যানসার,প্রতিবনন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাদের ভ্রমন কর মাত্র ৬১ টাকা। এছাড়া চলতি মাস থেকে নতুন করে ভারত অংশে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশি ও ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রীদের ভ্রমন কর গুনতে হচ্ছে ৪০০ রুপি ও বিদেশিদের ৮০০ রুপি। 

রোববার ভোর সাড়ে ৬ টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে মোট যাতায়াত করেছে ১৫১১ জন। এদের মধ্যে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে গেছে ৮৪৯ জন। এসব যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশি ৬৯১ জন, ভারতীয় ছিল ১৫৫ জন। অনান্য দেশের ছিল ৩ জন। এসময় ভারত থেকে ফিরেছে ৬৬২ জন। এর মধ্যে বাংলাদেশি ৫২৫ জন ও ভারতীয় ছিল ১৩৩ জন ।অনান্য দেশের ছিল ৪ জন। ৫ আগস্টের পর ভিসা জটিলতায় পাসপোর্টধারী যাতায়াত কমে যায়।

এদিকে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান, রেলপথে এসিআই মটরস নামে আমদানিকারকের কেবল ভারত থেকে ট্রাকটর আমদানি হয়। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে রেলে অনান্য পণ্যের আমিদানি এবং ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারনে ঢাকা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়