শিরোনাম
◈ নারী টি-টোয়েন্টিতে বাংলা‌দেশ দলের নতুন অধিনায়ক নাহিদা আক্তার ◈ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে পরিস্থিতি হঠাৎ করেই খুব উত্তপ্ত, দফায় দফায় সংঘর্ষ ◈ ঢাকা থেকে ১১৮ ফ্লাইট বাতিল, আটকা ১৮৩৬২ যাত্রী ◈ দেশকে স্বাধীন করার জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা যেমন ধর্ম দেখিনি, জাত দেখিনি: তারেক রহমান ◈ একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা, এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে আশাবাদী, জানালেন পরিকল্পনা ◈ প্রশাসনে সচিব পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তাকে দপ্তর বদল ও পদায়ন করেছে সরকার, কে কোথায় গেলেন ◈ যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব ◈ যাত্রীশূন্য শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, এমন রূপ কেউ কখনও দেখেননি আগে (ভিডিও) ◈ এবার টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি, হামলার দায় স্বীকার লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের (ভিডিও)

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:৫৫ রাত
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আইন সম্পর্কে জানতাম না”: নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমেদ প্রিন্স

ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন প্রণীত “রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা–২০২৫” ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। তফসিল ঘোষণা ও প্রতীক বরাদ্দের পর সংশ্লিষ্ট এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তারা বৈধ প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে আচরণ বিধিমালা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। তবে এতসব উদ্যোগের পরও রাজশাহীতে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা থামানো যাচ্ছে না।

নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত লিফলেট, হ্যান্ডবিল, পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড সংক্রান্ত বিষয়ে আচরণ বিধিমালায় সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী, রেক্সিন, পলিথিন, প্লাস্টিক (পিভিসি) বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো অপচনশীল উপাদান দিয়ে প্রচারসামগ্রী তৈরি করা নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে নির্বাচনী এলাকায় ব্যবহৃত ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন অবশ্যই সাদা-কালো রঙের হতে হবে; কোনোভাবেই রঙিন বা কালার প্রচারসামগ্রী ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া প্রার্থীর ছবি বা নির্বাচনী প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ কিংবা উচ্চতা ৩ মিটারের বেশি হওয়ার সুযোগ নেই।

কিন্তু এসব বিধিনিষেধ অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমেদ প্রিন্সের বিরুদ্ধে। মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই প্রার্থী নিজ কর্মীদের মাধ্যমে লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিতরণ করছেন এবং নিজেও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। লিফলেট ও হ্যান্ডবিলের ক্ষেত্রে বিধি মেনে চললেও, তিনি বিশালাকার রঙিন ব্যানার ব্যবহার করে সরাসরি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরীর মুন্নাফের মোড় এলাকায় প্রতীক বরাদ্দের পরদিনই প্রার্থী প্রিন্স নিজ বাসভবনের তৃতীয় তলায় একটি বিশাল রঙিন ব্যানার টানান। ওই ব্যানারে নির্ধারিত পরিমাপের চেয়ে কয়েকগুণ বড় আকারে নিজের ছবি ও প্রতীকের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এলাকার সচেতন নাগরিকরা ব্যানারটি অপসারণের অনুরোধ জানালেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি বলে জানান স্থানীয়রা।

Advertisement

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সালেহ আহমেদ প্রিন্স বলেন, “এই আইন সম্পর্কে আমার জানা ছিল না। আমি এসব নিয়ম জানতাম না।” তবে গত ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের সময় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা সব প্রার্থীকে আচরণ বিধিমালা সম্পর্কে সংক্ষেপে অবহিত করেন। এছাড়া প্রত্যেক প্রার্থীকে বিধিমালার পিডিএফ কপিও সরবরাহ করা হয় এবং নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রার্থী পুনরায় জানান, তিনি নিয়মগুলো জানতেন না এবং ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর ব্যানার খুলে ফেলার আশ্বাস দেন।

তবে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য যাচাই করতে প্রার্থী প্রিন্সের ভবনের নিচতলার সিঁড়িঘর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে আরও কয়েকটি বিশালাকার রঙিন ব্যানার মজুদ করে রাখা হয়েছে।

বিষয়টি রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতারকে জানানো হলে তিনি বলেন, “প্রার্থী আইন সম্পর্কে অবগত নন—এটি কোনোভাবেই অজুহাত হতে পারে না। আচরণ বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে আচরণ বিধিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও মুদ্রণের তারিখবিহীন কোনো ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না। তবে রাজশাহী শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঝুলে থাকা অসংখ্য ব্যানারে এই তথ্য অনুপস্থিত দেখা গেছে। যদিও লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনে এসব নিয়ম মোটামুটি মানা হচ্ছে, ব্যানারের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম চোখে পড়ছে।

নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত আইনানুগত ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। 

  • সর্বশেষ