রবিবার দুপুর ঠিক ১২টা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একদিকে যেমন বহির্গমন টার্মিনাল যাত্রীশূন্য, তেমনি যাত্রীশূন্য আগমনী টার্মিনালও। বিমানবন্দরের সামনে পার্কিংও গাড়িশূন্য। যাত্রী ও গাড়িশূন্য বিমানবন্দরের এমন রূপ কবে কে দেখেছেন! যাত্রীর চাপ একেবারেই কম থাকায় অনেকটা চাপমুক্ত কর্মকর্তারাও। তারাও আয়েশি দিন পার করছেন। আর বিমানবন্দরের বাইরের দোকানগুলোতেও বেচাকেনায় টান পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরের ফ্লাইট বন্ধ থাকায় দেশে প্রবাসী আসা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। এ কারণে প্রবাসী নিতে যেসব গাড়ি আসতো সেগুলোও আসছে না। ওই গাড়িতে করেই আসতো একেকজন যাত্রীর পেছনে ৭-৮ জন। এতে করে পুরো বিমানবন্দর লোকারণ্য থাকতো। আর পার্কিংয়ে গাড়ি রাখার জায়গায় থাকতো না। জায়গা না পেয়ে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংও করতে হতো অনেককে।
কিন্তু এখন আর সেই অবস্থা নেই। যাত্রী নেই, গাড়ি নেই, স্বজন নেই। পুরো বিমানবন্দরে এক প্রকার শুনশান নীরবতা।
সরেজমিন দেখা যায়, আগমনী দুই টার্মিনালে নেই পূর্বের মতো কোলাহল। যাত্রী নিতে স্বজনদের যে তাড়াহুড়ো, ভেতরে ঢোকার প্রবণতা, গাদাগাদি মানুষ—এসবের ছিটেফোঁটাও নেই। একসঙ্গে যে দুই তিনটি ফ্লাইট নামা, ট্রলি নিতে দৌড়ঝাঁপ তা যেন হারিয়ে গেছে। আর সামনে কারপার্কিংয়ের জায়গা একেবারেই ফাঁকা।
দুবাই থেকে যাত্রী আসার অপেক্ষায় থাকা হাবিবুর রহমান জানান, তিনি ভাইকে নিতে এসেছেন। এর আগেও তিনি মাঝে মধ্যে বিমানবন্দরে এসেছেন, কিন্তু এ রকম অবস্থা কোনোদিন দেখেননি।
বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে দায়িত্বরত এপিবিএন সদস্য ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, সব ফাঁকা হয়ে আছে। যাত্রী নেই এ কারণে বিমানবন্দর একেবারে ফাঁকা বললেই চলে। আগে যে যাত্রী ও স্বজন সামলানোর চাপ ছিল, সেটি এখন নেই। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবারও চাপ বাড়বে।
এদিকে বহির্গমনের অবস্থাও প্রায় একই রকম। সৌদি ফ্লাইট একের পর এক বাতিলের কারণে যাত্রীই নেই। ওমরা যাত্রী একটু দেখা গেলেও পূর্বের মতো যাত্রী ঢল নেই।
কাতারের দোহাগামী যাত্রী আকবর হোসেন জানান, দুই মাস আগে তিনি আসার সময় ক্যানোপিতে যে ভিড় দেখছেন, আজকে যাওয়ার সময় অনেকটা অবাক হলেন। ওপর নিচে কোথাও যাত্রীর চাপ নেই। দোহাগামী আরেক যাত্রী তরিকুল ইসলাম বলেন, সৌদির পরিস্থিতি ভালো না হলে এ রকমই থাকবে।
অন্যদিকে কাস্টমস, ইমিগ্রেশনসহ অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তারা এখন একটু চাপমুক্ত। যাত্রী না থাকায় অনেকটা আয়েশিভাবে তারা দায়িত্ব পালন করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাস্টমের একজন কর্মকর্তা বলেন, আগে তো খাওয়া, ওয়াশরুম এবং নামাজ পড়তে যেতেও সমস্যা হতো। কিন্তু গত কিছুদিন এমন অবস্থা একরকম বিরক্ত লাগছে। আমরা যাত্রী চাপে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। এখন যেন কেমন কেমন লাগছে।
প্রসঙ্গত, গত ১০ অক্টোবর রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে শাহজালাল বিমানবন্দরে গত ৮ দিনে ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়ে আটকা পড়েন ১৭ হাজারের বেশি প্রবাসী। একইভাবে সৌদি থেকেও দেশে আসতে পারছেন না হাজার হাজার প্রবাসী। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন